বিপ্লবী বার্তা

চবিতে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতে অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ে কর্মশালা

উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে অ্যাক্রেডিটেশন ও আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলাম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সিনেট কক্ষে ‘স্ট্র্যাটেজিক ডিসকাশন অন অ্যাক্রেডিটেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক ফর কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স অব হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ দেওয়ার জন্য পড়াশোনা করানো হয় না। এমন দক্ষ ও যোগ্য গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবেন। এ জন্য শিক্ষাক্রম এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কী শিখবেন, কী দক্ষতা অর্জন করবেন এবং কর্মজীবনে সেই জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাবেন, তা স্পষ্ট থাকে। এটিই আউটকাম বেজড এডুকেশনের মূল ধারণা।তিনি আরও বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। শিক্ষার গুণগত মান প্রতিষ্ঠিত হলে অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের পথও সহজ হবে। তাই অ্যাক্রেডিটেশনকে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে শিক্ষার মান উন্নয়নের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি বলেন, গবেষণার পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ জন্য শিক্ষার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়ন ও অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে।উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়েন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। শিক্ষাক্রমে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যা সমাধান, বিশ্লেষণ, যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রাখতে হবে। শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, একজন শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করে কী জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে বের হচ্ছেন, সেটিই বিবেচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত।চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ওবিই বাস্তবায়ন শুধু পাঠদান ও পরীক্ষা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি পর্যায়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ, মূল্যায়নপদ্ধতি অনুসরণ এবং শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিক্ষণফলের প্রমাণ সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কার্যক্রম যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হচ্ছে।উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ও আন্তদেশীয় গবেষণার ক্ষেত্রেও কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।কর্মশালার প্রথম অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন চবি আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি ‘দ্য রোল অব পিএসিএসি ইন অ্যাক্রেডিটেশন: প্রিপারেশন অব ডকুমেন্টস অ্যান্ড এসএআর, অ্যান্ড প্রিপেয়ারিং ফর অডিট’ বিষয়ে কারিগরি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। অধিবেশনে ‘প্রিপারেশন ফর অ্যাক্রেডিটেশন অব হায়ার এডুকেশন প্রোগ্রামস ইন বাংলাদেশ: রোল অব বিএসি’ বিষয়ে কারিগরি উপস্থাপনা দেন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ এমরান।এ অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন। পরে আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোছাইনের সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য দেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

চবিতে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতে অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ে কর্মশালা