'চুপ্পু ইসলামি ব্যাংক দখল করে এস আলমের হাতে তুলে দিয়েছে'- আখতার হোসেন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য-সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন আইকন নন, তিনি একজন লুটেরাও। তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলাম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া, বিদেশে বাড়িঘর ও স্থায়ী আবাসনের মতো নানা কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন।রোববার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশক্তির আয়োজনে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক ফটো এক্সিবিশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের সামনে ২০২৪ সালের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।আখতার হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি দেননি—এ বিষয়ে শাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুই ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করেছেন। একবার বলেছেন পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়েছে, আবার বলেছেন দেওয়া হয়নি।”তিনি বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। সে সময় শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে জেলেও যেতে হয়েছে। জেলখানা যতটা বসবাসের অযোগ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমগুলো তার চেয়েও বেশি অমানবিক মনে হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখতাম, যেখানে নির্যাতন থাকবে না, বাক্স্বাধীনতা থাকবে, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে উঠবে।”শিক্ষার্থীদের ভূমিকার বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও শিক্ষার্থীদের ভাবতে হবে। দেশ বা সরকার সংকটে পড়লে শিক্ষার্থীরাই সবার আগে সাহস করে কথা বলে। তারুণ্যের শক্তিতে তারা ভয়কে জয় করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত রাখে।”সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পিএসসিতে শুধু সরকার-সমর্থিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়। তাই ঐক্যমত্য কমিশনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে পিএসসির সদস্য নিয়োগ দিতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটি আরও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।”অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য-সচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। এছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।