জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় মির্জাপুর বছির উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে অব্যাহতি
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর বছির উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার মো. মুশফিকুর রহমান সুমনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কলেজে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ার কথা উল্লেখ করে তাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।একই নির্দেশনায় কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্যানেল তৈরি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত বর্তমান অধ্যক্ষকে আর্থিক লেনদেনসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।অধ্যক্ষ মুশফিকুর রহমান সুমনকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট তার পদত্যাগের দাবিতে কলেজে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। আন্দোলনে নিয়োগপ্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করা হয়।এর আগে কলেজের দাতা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আখিরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিয়োগপ্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় এক কোটি টাকা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠে আসে।পরবর্তীতে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, এসব মামলা ছিল হয়রানিমূলক। বিষয়টি নিয়েও সে সময় আলোচনা ও প্রতিবাদ হয়।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনার পর কলেজটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের দিকে নজর রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের।