দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চার বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক বন্দরসুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কনটেইনার লোডিং-আনলোডিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করতে শোর-টু-শিপ ক্রেন, আরটিজিএস, টার্মিনাল ট্রাক্টর, টার্মিনাল ট্রেইলার, এম্পটি হ্যান্ডলার, রিচ স্ট্যাকার, কনটেইনার ওয়েইগার ও ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানারসহ মোট ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে পণ্য ওঠানামার সময় কমানো, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণেও বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, ঋণচুক্তি এবং বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চীনের চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন ।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চার বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক বন্দরসুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কনটেইনার লোডিং-আনলোডিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করতে শোর-টু-শিপ ক্রেন, আরটিজিএস, টার্মিনাল ট্রাক্টর, টার্মিনাল ট্রেইলার, এম্পটি হ্যান্ডলার, রিচ স্ট্যাকার, কনটেইনার ওয়েইগার ও ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানারসহ মোট ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে পণ্য ওঠানামার সময় কমানো, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণেও বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, ঋণচুক্তি এবং বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চীনের চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন ।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন