বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

সংগ্রাম পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে দুর্গাপুরের অমিত খান, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু

সংগ্রাম পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে দুর্গাপুরের অমিত খান, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিজের নতুন কর্মজীবন শুরু করলেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার অদম্য মেধাবী অমিত খান অমি।

রবিবার (১ নভেম্বর) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তিনি সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন। ৪৫ তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়ে অমিত খান প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

দুর্গাপুরের ঝাঞ্জাইল এলাকায় বেড়ে ওঠা অমিত খান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি ও ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। তার পিতা অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান (শহীদ খান)। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সাত্তার খান এর নাতি।

নেত্রকোণার এই মেধাবী সন্তানের এমন সাফল্যে নিজ উপজেলা দুর্গাপুরে আনন্দের ঢেউ বইছে। নানা শ্রেণী পেশার নাগরিক তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত করেছেন। তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবন সাফল্যমণ্ডিত করতে শুভকামনা জানিয়েছেন। 

বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অমিত খান বলেন, আল্লাহর রহমতে আজ প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ। এই অনুভূতি আসলে ভাষায় বর্ণনা করার মতো না। আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া জানাই। আমি দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবো।

দেশের একজন বিসিএস কর্মকর্তা হয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছার যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিলনা অমিত খানের। তিনি ৪৪তম বিসিএসে প্রথমবার উত্তীর্ণ হন। সেবার ইন্সট্রাক্টর ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও যোগ দেননি। পরের বিসিএসেই কাঙ্খিত স্বপ্নের দেখা পান তিনি। ৪৫তম বিসিএস তাই তার কাছে স্বপ্ন জয়ের গন্তব্য। 

অমিত খান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করেই ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি রেনাটা লিমিটেডে চাকরি শুরু করেন। চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। প্রতিদিন অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে শুরু হয় বিসিএস জয় করার নতুন যুদ্ধ। এসময় একেকটি দিন ছিল নিজের সাথে নিজের লড়াই। কঠিন পরিশ্রম আর অধ্যবসায় তাকে নিয়ে যায় স্বপ্নের পথে। প্রিলিমিনারি,রিটেন,ভাইভা - একে একে সবগুলো ধাপ পেরিয়ে পৌঁছে যান চূড়ান্ত মূল্যায়নে। শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়।

জীবনের এই সংগ্রামে মজার ব্যাপার হচ্ছে, অমিত খান ৪৪ বা ৪৫তম বিসিএসের কোনোটিতেই কোনো কোচিংয়ে পরীক্ষা দেননি। তার ভাষায়, চাকরি করে এসে ক্লান্ত থাকতাম। ৪৪ এ লিখিত পরীক্ষা মনমতো হয়নি। আল্লাহর রহমতে ৪৫তম বিসিএসে লিখিত দিয়ে বুঝেছিলাম এবার ভালো কিছু আসতে পারে। প্রিলিমিনারির জন্য সেভাবে কোথাও পরীক্ষা দেইনি। লিখিত দেয়ার তো সুযোগ বা সময় কোনটিই ছিল না। ৪৪ এ ভাইভার আগের দিন তাও একটা মক ভাইভা দিয়েছিলাম, ৪৫ এ তাও দেইনি। 

অমিত বলেন, সবাই যেখানে প্রচুর লিখিত পরীক্ষা দিচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় মক ভাইভা দিচ্ছে, আমি তখন অফিস করে দৌড়াচ্ছি। বাসায় এসে একটু ঘুমিয়ে পড়তে বসছি। পরীক্ষার আগে আগে অফিসের ডর্মে থেকে যেতাম যেন ভালো পড়া হয়। এর সাথে বাসার হাজারো দায়িত্ব তো ছিলোই। তখনকার সময়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে একটা সিনেমা বানানো যাবে। কিন্তু সবসময় আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আর সাথে আল্লাহর রহমত ছিলো। আমি সাধারণত পরীক্ষা নিয়ে নার্ভাস হই না। সব আল্লাহর রহমত আসলে। আমার মতো অধমকে এই পর্যন্ত এনেছেন। 

ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ সুসঙ্গ দুর্গাপুরের একজন অমিত খানের এমন সংগ্রাম আর সাফল্য দিনশেষে দুর্গাপুরকে গর্বিত করে চমৎকারভাবে, এমনটাই বলছেন উপজেলাবাসী। তারা বলেন, অমিত যেন তার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশ ও দশের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন এবং সততার মূর্ত প্রতীক হয়ে মানুষের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তার প্রতি সকলের এটিই প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


সংগ্রাম পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে দুর্গাপুরের অমিত খান, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিজের নতুন কর্মজীবন শুরু করলেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার অদম্য মেধাবী অমিত খান অমি।

রবিবার (১ নভেম্বর) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তিনি সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন। ৪৫ তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়ে অমিত খান প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

দুর্গাপুরের ঝাঞ্জাইল এলাকায় বেড়ে ওঠা অমিত খান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি ও ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। তার পিতা অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান (শহীদ খান)। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সাত্তার খান এর নাতি।

নেত্রকোণার এই মেধাবী সন্তানের এমন সাফল্যে নিজ উপজেলা দুর্গাপুরে আনন্দের ঢেউ বইছে। নানা শ্রেণী পেশার নাগরিক তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত করেছেন। তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবন সাফল্যমণ্ডিত করতে শুভকামনা জানিয়েছেন। 

বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অমিত খান বলেন, আল্লাহর রহমতে আজ প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ। এই অনুভূতি আসলে ভাষায় বর্ণনা করার মতো না। আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া জানাই। আমি দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবো।

দেশের একজন বিসিএস কর্মকর্তা হয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছার যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিলনা অমিত খানের। তিনি ৪৪তম বিসিএসে প্রথমবার উত্তীর্ণ হন। সেবার ইন্সট্রাক্টর ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও যোগ দেননি। পরের বিসিএসেই কাঙ্খিত স্বপ্নের দেখা পান তিনি। ৪৫তম বিসিএস তাই তার কাছে স্বপ্ন জয়ের গন্তব্য। 

অমিত খান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করেই ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি রেনাটা লিমিটেডে চাকরি শুরু করেন। চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। প্রতিদিন অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে শুরু হয় বিসিএস জয় করার নতুন যুদ্ধ। এসময় একেকটি দিন ছিল নিজের সাথে নিজের লড়াই। কঠিন পরিশ্রম আর অধ্যবসায় তাকে নিয়ে যায় স্বপ্নের পথে। প্রিলিমিনারি,রিটেন,ভাইভা - একে একে সবগুলো ধাপ পেরিয়ে পৌঁছে যান চূড়ান্ত মূল্যায়নে। শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়।

জীবনের এই সংগ্রামে মজার ব্যাপার হচ্ছে, অমিত খান ৪৪ বা ৪৫তম বিসিএসের কোনোটিতেই কোনো কোচিংয়ে পরীক্ষা দেননি। তার ভাষায়, চাকরি করে এসে ক্লান্ত থাকতাম। ৪৪ এ লিখিত পরীক্ষা মনমতো হয়নি। আল্লাহর রহমতে ৪৫তম বিসিএসে লিখিত দিয়ে বুঝেছিলাম এবার ভালো কিছু আসতে পারে। প্রিলিমিনারির জন্য সেভাবে কোথাও পরীক্ষা দেইনি। লিখিত দেয়ার তো সুযোগ বা সময় কোনটিই ছিল না। ৪৪ এ ভাইভার আগের দিন তাও একটা মক ভাইভা দিয়েছিলাম, ৪৫ এ তাও দেইনি। 

অমিত বলেন, সবাই যেখানে প্রচুর লিখিত পরীক্ষা দিচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় মক ভাইভা দিচ্ছে, আমি তখন অফিস করে দৌড়াচ্ছি। বাসায় এসে একটু ঘুমিয়ে পড়তে বসছি। পরীক্ষার আগে আগে অফিসের ডর্মে থেকে যেতাম যেন ভালো পড়া হয়। এর সাথে বাসার হাজারো দায়িত্ব তো ছিলোই। তখনকার সময়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে একটা সিনেমা বানানো যাবে। কিন্তু সবসময় আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আর সাথে আল্লাহর রহমত ছিলো। আমি সাধারণত পরীক্ষা নিয়ে নার্ভাস হই না। সব আল্লাহর রহমত আসলে। আমার মতো অধমকে এই পর্যন্ত এনেছেন। 

ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ সুসঙ্গ দুর্গাপুরের একজন অমিত খানের এমন সংগ্রাম আর সাফল্য দিনশেষে দুর্গাপুরকে গর্বিত করে চমৎকারভাবে, এমনটাই বলছেন উপজেলাবাসী। তারা বলেন, অমিত যেন তার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশ ও দশের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন এবং সততার মূর্ত প্রতীক হয়ে মানুষের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তার প্রতি সকলের এটিই প্রত্যাশা।



বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা