বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

কুড়িগ্রামের ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কেউ, ৭০ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য

কুড়িগ্রামের ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কেউ, ৭০ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য
ছবি-বিপ্লবী বার্তা

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছেন একজনও।

শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেননি। নাগেশ্বরী মডেল কলেজ থেকে ১৫ জন, রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গার ডাবরিরহাট কলেজ থেকে ১০ জন এবং সিঙ্গার ডাবরিরহাট বি.এল. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এ ছাড়া নাগেশ্বরী উপজেলার কুটি পায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন, ছিলাখানা মডেল কলেজ থেকে চারজন, উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন, চিলমারীর দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন এবং রাজারহাটের পাঙ্গারাণী লক্ষ্মী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও শূন্য।

এদিকে, জেলার সামগ্রিক এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন চার হাজার ৭৭৩ জন। সে হিসাবে জেলায় গড় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

ফলাফলে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের পাসের হার কম। জেলায় পাঁচ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ছয় হাজার ৩৯ জন ছাত্রীর মধ্যে পাসের হার ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বছর জেলায় মোট ১৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র এবং ৭৭ জন ছাত্রী।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে পাসের হারে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ।

শূন্য পাসের বিষয়ে উলিপুর উপজেলার হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রহুল আমিন বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের তিন পরীক্ষার্থীই বিবাহিত। সংসারের চাপের কারণে তাঁরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, সবাই পাস করুক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আগ্রহ না থাকলে ভালো ফল করা কঠিন।’

এ বিষয়ে সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, তাঁরা সাধারণ মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম দেখভাল করেন। উচ্চমাধ্যমিক শাখা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত অবগত নন।

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


কুড়িগ্রামের ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কেউ, ৭০ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছেন একজনও।

শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেননি। নাগেশ্বরী মডেল কলেজ থেকে ১৫ জন, রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গার ডাবরিরহাট কলেজ থেকে ১০ জন এবং সিঙ্গার ডাবরিরহাট বি.এল. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এ ছাড়া নাগেশ্বরী উপজেলার কুটি পায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন, ছিলাখানা মডেল কলেজ থেকে চারজন, উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন, চিলমারীর দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন এবং রাজারহাটের পাঙ্গারাণী লক্ষ্মী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও শূন্য।

এদিকে, জেলার সামগ্রিক এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন চার হাজার ৭৭৩ জন। সে হিসাবে জেলায় গড় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

ফলাফলে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের পাসের হার কম। জেলায় পাঁচ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ছয় হাজার ৩৯ জন ছাত্রীর মধ্যে পাসের হার ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বছর জেলায় মোট ১৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র এবং ৭৭ জন ছাত্রী।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে পাসের হারে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ।

শূন্য পাসের বিষয়ে উলিপুর উপজেলার হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রহুল আমিন বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের তিন পরীক্ষার্থীই বিবাহিত। সংসারের চাপের কারণে তাঁরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, সবাই পাস করুক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আগ্রহ না থাকলে ভালো ফল করা কঠিন।’

এ বিষয়ে সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, তাঁরা সাধারণ মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম দেখভাল করেন। উচ্চমাধ্যমিক শাখা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত অবগত নন।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা