বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

এক্সক্লুসিভ

ময়মনসিংহে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ, বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

ময়মনসিংহে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ, বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নের দারিয়াকান্ধা এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়ায় কৃষিজমি ধ্বংস, পরিবেশদূষণ, রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকাবাসী।

১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নের দারিয়াকান্ধা সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাঁরা অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকার কৃষিজমি ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত চার-পাঁচ বছর ধরে একটি চক্র এলাকার ফসলি জমি থেকে ১০ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে কৃষি জমি কমছে অন্ এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাশের জমিগুলোও ভেঙে পড়ছে। ফলে কৃষকেরা জমিতে পানি ধরে রাখতে পারছেন না এবং স্বাভাবিকভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিবাদে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, চার পাঁচ বছর যাবত মোফাজ্জল মজি আনারুল হানিফা নেতৃত্ব তাদের একটি চক্র কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। একটি জমি গভীর করে কাটার কারণে পাশের জমিও ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। ফলে বাধ্য হচ্ছে এক ইটভাটায় মাটি দিতে এভাবে চলতে থাকলে একসময় মাটি কাটার প্রভাব বসতবাড়ি ও রাস্তার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁর অভিযোগ, মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাজারে চলাচলে বাধা দেওয়ার ভয়ও দেখানো হচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় মাটি কাটার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারদিন জানায়, মাটি বহনকারী যানবাহনের কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। সড়কে ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিন-রাত যানবাহন চলাচলের শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা চরম সমস্যায় পড়ছে। মাটি কাটার প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও বাইরের লোকজন তাঁদের ভয়ভীতি দেখায় বলেও সে অভিযোগ করে। ফারদিন জানায়, সে ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদুল বলেন, ফসলি জমি থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির পাশের অংশ ভেঙে পড়ছে এবং কৃষিজমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। জমিতে পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না, ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে মাটি বহনকারী যানবাহনের কারণে রাস্তাঘাটে ধুলাবালু ও কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাটি কাটার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বাজারে প্রবেশ ও রাস্তায় চলাচল করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাটি কাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি কৃষিজমি রক্ষা, জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত এবং পরিবেশদূষণ বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি ধ্বংস, পরিবেশদূষণ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনে দাবী জানান ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপে দারিয়াকান্ধা এলাকার কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সুরক্ষিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


ময়মনসিংহে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ, বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নের দারিয়াকান্ধা এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়ায় কৃষিজমি ধ্বংস, পরিবেশদূষণ, রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকাবাসী।

১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নের দারিয়াকান্ধা সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাঁরা অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকার কৃষিজমি ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত চার-পাঁচ বছর ধরে একটি চক্র এলাকার ফসলি জমি থেকে ১০ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে কৃষি জমি কমছে অন্ এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাশের জমিগুলোও ভেঙে পড়ছে। ফলে কৃষকেরা জমিতে পানি ধরে রাখতে পারছেন না এবং স্বাভাবিকভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিবাদে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, চার পাঁচ বছর যাবত মোফাজ্জল মজি আনারুল হানিফা নেতৃত্ব তাদের একটি চক্র কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। একটি জমি গভীর করে কাটার কারণে পাশের জমিও ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। ফলে বাধ্য হচ্ছে এক ইটভাটায় মাটি দিতে এভাবে চলতে থাকলে একসময় মাটি কাটার প্রভাব বসতবাড়ি ও রাস্তার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁর অভিযোগ, মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাজারে চলাচলে বাধা দেওয়ার ভয়ও দেখানো হচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় মাটি কাটার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারদিন জানায়, মাটি বহনকারী যানবাহনের কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। সড়কে ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিন-রাত যানবাহন চলাচলের শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা চরম সমস্যায় পড়ছে। মাটি কাটার প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও বাইরের লোকজন তাঁদের ভয়ভীতি দেখায় বলেও সে অভিযোগ করে। ফারদিন জানায়, সে ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদুল বলেন, ফসলি জমি থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির পাশের অংশ ভেঙে পড়ছে এবং কৃষিজমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। জমিতে পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না, ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে মাটি বহনকারী যানবাহনের কারণে রাস্তাঘাটে ধুলাবালু ও কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাটি কাটার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বাজারে প্রবেশ ও রাস্তায় চলাচল করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাটি কাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি কৃষিজমি রক্ষা, জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত এবং পরিবেশদূষণ বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি ধ্বংস, পরিবেশদূষণ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনে দাবী জানান ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপে দারিয়াকান্ধা এলাকার কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সুরক্ষিত হবে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা