বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

অর্থনীতি

আধুনিকতার ছোঁয়ায় কমেছে বিক্রি, সংকটে যশোর কেশবপুরের শত বছরের লোহাপট্টি

আধুনিকতার ছোঁয়ায় কমেছে বিক্রি, সংকটে যশোর কেশবপুরের শত বছরের লোহাপট্টি
ছবি: বিপ্লবী বার্তা

যশোরের কেশবপুরে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে লোহার সামগ্রীর ব্যবসার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে লোহাপট্টি। একসময় কৃষিকাজ, রান্নাবান্না ও ঘরবাড়ি নির্মাণের সরঞ্জামের জন্য এ বাজার ছিল মানুষের অন্যতম ভরসা। তবে আধুনিকতার প্রভাব ও ক্রেতাদের চাহিদা পরিবর্তনে কমেছে বিক্রি। পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আয় সীমিত হওয়ায় এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

ব্যবসায়ী আনন্দ কর্মকর জানান, তাঁর বাবা পঞ্চানন কর্মকর একসময় চটের ওপর লোহার সামগ্রী সাজিয়ে বিক্রি করতেন। সেই থেকে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এ ব্যবসার ঐতিহ্য চলে আসছে।

বর্তমানে লোহাপট্টিতে ১৫টির বেশি দোকান রয়েছে। প্রায় ১৫ জন ব্যবসায়ী এ পেশায় যুক্ত। এখানে তার, তারকাঁটা, বটি, কোদাল, কাঁচি ও পাসনিসহ কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ ও গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। কেশবপুর ছাড়াও চুকনগর, মনিরামপুর, ডুমুরিয়া ও কলারোয়া থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার ও মানুষের চাহিদার পরিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী লোহার পণ্যের বিক্রি কমেছে। অন্যদিকে কাঁচামালের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সব খরচ মিটিয়ে বর্তমানে মোটামুটি সংসার চালানোর মতো আয় হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ পেশায় আগ্রহ কমছে।

দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সিংহ, পিতা নারায়ণ সিংহ, বলেন, ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে বিশ্বাসের বিকল্প নেই। মানসম্মত পণ্য ও ভালো ব্যবহার দিয়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী উন্নত মানের কৃষি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় লোহার সামগ্রী অর্ডার দিয়ে তৈরি করে গ্যারান্টিসহ সরবরাহ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেশবপুরে দুই শতাধিক কর্মকার রয়েছেন। তাঁদের অনেকে এ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে বিক্রি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহের কারণে ঐতিহ্যবাহী এ পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা আগামী পাঁচ বছরে লোহাপট্টিকে আরও উন্নত অবস্থানে দেখতে চান। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে শত বছরের এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

যশোরে

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


আধুনিকতার ছোঁয়ায় কমেছে বিক্রি, সংকটে যশোর কেশবপুরের শত বছরের লোহাপট্টি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যশোরের কেশবপুরে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে লোহার সামগ্রীর ব্যবসার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে লোহাপট্টি। একসময় কৃষিকাজ, রান্নাবান্না ও ঘরবাড়ি নির্মাণের সরঞ্জামের জন্য এ বাজার ছিল মানুষের অন্যতম ভরসা। তবে আধুনিকতার প্রভাব ও ক্রেতাদের চাহিদা পরিবর্তনে কমেছে বিক্রি। পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আয় সীমিত হওয়ায় এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

ব্যবসায়ী আনন্দ কর্মকর জানান, তাঁর বাবা পঞ্চানন কর্মকর একসময় চটের ওপর লোহার সামগ্রী সাজিয়ে বিক্রি করতেন। সেই থেকে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এ ব্যবসার ঐতিহ্য চলে আসছে।

বর্তমানে লোহাপট্টিতে ১৫টির বেশি দোকান রয়েছে। প্রায় ১৫ জন ব্যবসায়ী এ পেশায় যুক্ত। এখানে তার, তারকাঁটা, বটি, কোদাল, কাঁচি ও পাসনিসহ কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ ও গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। কেশবপুর ছাড়াও চুকনগর, মনিরামপুর, ডুমুরিয়া ও কলারোয়া থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার ও মানুষের চাহিদার পরিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী লোহার পণ্যের বিক্রি কমেছে। অন্যদিকে কাঁচামালের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সব খরচ মিটিয়ে বর্তমানে মোটামুটি সংসার চালানোর মতো আয় হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ পেশায় আগ্রহ কমছে।

দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সিংহ, পিতা নারায়ণ সিংহ, বলেন, ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে বিশ্বাসের বিকল্প নেই। মানসম্মত পণ্য ও ভালো ব্যবহার দিয়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী উন্নত মানের কৃষি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় লোহার সামগ্রী অর্ডার দিয়ে তৈরি করে গ্যারান্টিসহ সরবরাহ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেশবপুরে দুই শতাধিক কর্মকার রয়েছেন। তাঁদের অনেকে এ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে বিক্রি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহের কারণে ঐতিহ্যবাহী এ পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা আগামী পাঁচ বছরে লোহাপট্টিকে আরও উন্নত অবস্থানে দেখতে চান। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে শত বছরের এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা