বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

পূজার ছুটির আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, মুক্তার খোঁজে স্বজনদের অপেক্ষা

পূজার ছুটির আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, মুক্তার খোঁজে স্বজনদের অপেক্ষা
ছবিঃ সংগৃহীত

পূজার ছুটিতে একটু আনন্দ, প্রিয় বান্ধবীদের সঙ্গে সমুদ্র দেখা আর ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন নাসরিন জাহান মুক্তা (২৯)। হয়তো সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত আর ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার।

কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণই মুহূর্তে পরিণত হলো এক দুঃস্বপ্নে। কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার এই স্কুলশিক্ষিকা। আগুনে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের মধ্যে এখনো তাকে শনাক্ত করতে পারেনি পরিবার। প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় কাটছে স্বজনদের প্রতিটি মুহূর্ত।

নাসরিন জাহান মুক্তা মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের স্বপ্ন বিলাস স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কাজের ব্যস্ততা থেকে পাওয়া ছুটির সময়টুকু আনন্দে কাটাতে দুই বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ভ্রমণ যে এমন ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি করবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পরিবারের কেউ।

পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, দুই বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে গিয়ে পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে উঠেছিলেন মুক্তা। শনিবার সকালে তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। মুক্তাকেও সঙ্গে যাওয়ার জন্য বলেন তারা। তবে ঘুমাবেন বলে রিসোর্টের কক্ষে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুক্তা। বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে আগুন লাগে।

এরপর কী ঘটেছিল, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা। একদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর, অন্যদিকে মুক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারা—সব মিলিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের।

রোববার সকাল ৬টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। উদ্ধার করা হয় ১০ জনের মরদেহ। তবে তাদের মধ্যে মুক্তা রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি তার পরিবার।

প্রায় ১৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মুক্তার মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে রোববার সকালে জানান তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি। মরদেহ শনাক্ত করতে বর্তমানে কক্সবাজারে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

মুক্তার ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের মধ্যে আমার বোনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করতে পারিনি। বোনজামাই এখন কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন। এই শোক ও অনিশ্চয়তা সইবার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই। মরদেহ শনাক্ত করতে পারলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসব।

মুক্তার নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নিজ এলাকা মঠবাড়িয়ায়ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। খোঁজখবর নিয়ে দেখব কিছু করা যায় কি না।

১০ জনের মরদেহের মধ্যে একজন হয়তো মুক্তা। এই আশঙ্কাই এখন তাড়া করে ফিরছে পরিবারকে। প্রিয়জনের মৃত্যুর শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মরদেহ শনাক্ত করার অপেক্ষা। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আশায় দিন গুনছেন স্বজনেরা। একদিকে প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে সেই মানুষটির মরদেহও নিশ্চিতভাবে চিনতে না পারার অসহায়ত্ব—সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে মুক্তার পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত।

আগুন কক্সবাজার

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


পূজার ছুটির আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, মুক্তার খোঁজে স্বজনদের অপেক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পূজার ছুটিতে একটু আনন্দ, প্রিয় বান্ধবীদের সঙ্গে সমুদ্র দেখা আর ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন নাসরিন জাহান মুক্তা (২৯)। হয়তো সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত আর ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার।

কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণই মুহূর্তে পরিণত হলো এক দুঃস্বপ্নে। কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার এই স্কুলশিক্ষিকা। আগুনে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের মধ্যে এখনো তাকে শনাক্ত করতে পারেনি পরিবার। প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় কাটছে স্বজনদের প্রতিটি মুহূর্ত।

নাসরিন জাহান মুক্তা মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের স্বপ্ন বিলাস স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কাজের ব্যস্ততা থেকে পাওয়া ছুটির সময়টুকু আনন্দে কাটাতে দুই বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ভ্রমণ যে এমন ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি করবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পরিবারের কেউ।

পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, দুই বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে গিয়ে পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে উঠেছিলেন মুক্তা। শনিবার সকালে তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। মুক্তাকেও সঙ্গে যাওয়ার জন্য বলেন তারা। তবে ঘুমাবেন বলে রিসোর্টের কক্ষে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুক্তা। বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে আগুন লাগে।

এরপর কী ঘটেছিল, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা। একদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর, অন্যদিকে মুক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারা—সব মিলিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের।

রোববার সকাল ৬টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। উদ্ধার করা হয় ১০ জনের মরদেহ। তবে তাদের মধ্যে মুক্তা রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি তার পরিবার।

প্রায় ১৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মুক্তার মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে রোববার সকালে জানান তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি। মরদেহ শনাক্ত করতে বর্তমানে কক্সবাজারে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

মুক্তার ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের মধ্যে আমার বোনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করতে পারিনি। বোনজামাই এখন কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন। এই শোক ও অনিশ্চয়তা সইবার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই। মরদেহ শনাক্ত করতে পারলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসব।

মুক্তার নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নিজ এলাকা মঠবাড়িয়ায়ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। খোঁজখবর নিয়ে দেখব কিছু করা যায় কি না।

১০ জনের মরদেহের মধ্যে একজন হয়তো মুক্তা। এই আশঙ্কাই এখন তাড়া করে ফিরছে পরিবারকে। প্রিয়জনের মৃত্যুর শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মরদেহ শনাক্ত করার অপেক্ষা। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আশায় দিন গুনছেন স্বজনেরা। একদিকে প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে সেই মানুষটির মরদেহও নিশ্চিতভাবে চিনতে না পারার অসহায়ত্ব—সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে মুক্তার পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা