বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

একই স্থানে তিনবার নাম বদল: এবার ‘শহীদ জিয়া চত্বর’ উদ্বোধন

একই স্থানে তিনবার নাম বদল: এবার ‘শহীদ জিয়া চত্বর’ উদ্বোধন
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

একই জায়গায় বারবার নাম পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনের চত্বরটি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বারবার নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করছে। সরকার ও রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর ভিত্তি করে নতুন নতুন নামে চত্বরটির নামকরণ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে “বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর” স্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসক তন্ময় দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এমপি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নোয়াখালীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজার পর জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ের সামনে সাবেক বঙ্গবন্ধু চত্বরকে ওসমান হাদি চত্বর ঘোষণা করে জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আজাদসহ জামায়াত, শিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা।পরে তারা জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ের সামনে সাবেক বঙ্গবন্ধু চত্বরকে ওসমান হাদি চত্বর ঘোষণা করে জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা।

এ দিকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে আবারও স্থানটির রাজনৈতিক ও দৃশ্যমান পরিচয় বদলে গেছে। নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে এই স্থানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ নতুন নামকরণের ঘোষণা দেন।

একই স্থান কেন্দ্র করে বারবার নামকরণের এই সংস্কৃতি নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন জেগেছে। অনেকের মতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী নতুন কোনো স্থানে নতুন ভাস্কর্য বা চত্বর তৈরি না করে, পূর্বের বিদ্যমান স্থাপনা ও চত্বরগুলোকেই বারবার নতুন নামে পুনঃনামকরণ করছে। বিষয়টিকে অনেকেই সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী বলে মনে করছেন।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক স্ট্যাটাস বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কোথাও কারো নেমপ্লেট মুছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের  নাম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নামে কোনো চত্বর করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের এরকম কোনো ইচ্ছা নাই, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সস্তা রাজনীতি করেন না। নোয়াখালীতে কেউ করলে তার দায়ী বিএনপির নয়। ক্ষমতায় থাকলে অমুক চত্বর, ক্ষমতায় না থাকলে তমুক এসব রাজনীতির দিনশেষ।

নোয়াখালী শহীদ জিয়া চত্বর নোয়াখালী

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


একই স্থানে তিনবার নাম বদল: এবার ‘শহীদ জিয়া চত্বর’ উদ্বোধন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একই জায়গায় বারবার নাম পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনের চত্বরটি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বারবার নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করছে। সরকার ও রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর ভিত্তি করে নতুন নতুন নামে চত্বরটির নামকরণ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে “বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর” স্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসক তন্ময় দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এমপি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নোয়াখালীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজার পর জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ের সামনে সাবেক বঙ্গবন্ধু চত্বরকে ওসমান হাদি চত্বর ঘোষণা করে জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আজাদসহ জামায়াত, শিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা।পরে তারা জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ের সামনে সাবেক বঙ্গবন্ধু চত্বরকে ওসমান হাদি চত্বর ঘোষণা করে জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা।

এ দিকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে আবারও স্থানটির রাজনৈতিক ও দৃশ্যমান পরিচয় বদলে গেছে। নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে এই স্থানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ নতুন নামকরণের ঘোষণা দেন।

একই স্থান কেন্দ্র করে বারবার নামকরণের এই সংস্কৃতি নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন জেগেছে। অনেকের মতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী নতুন কোনো স্থানে নতুন ভাস্কর্য বা চত্বর তৈরি না করে, পূর্বের বিদ্যমান স্থাপনা ও চত্বরগুলোকেই বারবার নতুন নামে পুনঃনামকরণ করছে। বিষয়টিকে অনেকেই সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী বলে মনে করছেন।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক স্ট্যাটাস বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কোথাও কারো নেমপ্লেট মুছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের  নাম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নামে কোনো চত্বর করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের এরকম কোনো ইচ্ছা নাই, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সস্তা রাজনীতি করেন না। নোয়াখালীতে কেউ করলে তার দায়ী বিএনপির নয়। ক্ষমতায় থাকলে অমুক চত্বর, ক্ষমতায় না থাকলে তমুক এসব রাজনীতির দিনশেষ।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা