বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

জাবিতে শিশুশ্রমের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী

নাফিজ আল জাকারিয়া
নাফিজ আল জাকারিয়া জাবি
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
জাবিতে শিশুশ্রমের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী
ছবি : বিপ্লবী বার্তা

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে চলমান শিশুশ্রমের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের ক্যানটিনে এই প্রদর্শনী শুরু হয়। আগামী পাঁচ দিন সকাল দশটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন।

প্রদর্শনীটির আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ রহমান। তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসের বড় বড় নেতা, জাকসু ও হল সংসদের নেতাদের অনেকেই আল বেরুনী হলে থাকেন এবং প্রতিনিয়ত এই ক্যানটিনে খাবার খান। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরাও খাচ্ছি। কিন্তু যেসব বাচ্চাদের হাত থেকে খাবারটা গ্রহণ করছি, এই বাচ্চাদের তো আমাদের মতো পড়াশোনা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা কাজ করছে। তাদের কোন বাধ্যবাধকতা আছে দেখেই হয়তো কাজ করতে হচ্ছে, তাই তাদের হঠাৎ ছাঁটাই করে দেওয়াও সম্ভব নয়। তাহলে এই সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব এবং এর জন্য আসলে দায়ী কারা? ক্যানটিন বয়দের হাত থেকে খাবার খেতে গিয়ে আমার যে অপরাধবোধ কাজ করে, বাকিদেরও সেই অনুভূতি হয় কি না, তা জানতেই আমি এই প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছি।”

প্রদর্শনীতে ভিন্ন রঙ ব্যবহার করে ভিজ্যুয়াল কনট্রাস্টের মাধ্যমে দুটি আলাদা শ্রেণির বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে। আসিফ রহমান জানান, ক্যানটিন বয়দের ছবিগুলো আঁকা হয়েছে নীল রঙে, যা তাদের বিষণ্ণ অবস্থাকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের ছবিগুলো কমলা রঙে আঁকা হয়েছে। কমলা রঙ চোখে অস্বস্তি তৈরি করে, এতে করে দর্শকদের সরাসরি ক্যানটিন বয়দের ছবিগুলোর দিকে মনযোগ যায় এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগহীনতার বিষয়টি ফুটে ওঠে।

​ক্যানটিনে কর্মরত শিশুদের অমানবিক পরিশ্রমের চিত্র তুলে ধরে এই আসিফ আরও বলেন, “এই শিশুদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই। সকালে কাজ শুরু করে বিকেল পর্যন্ত থাকে। আবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত কাজ করে। বিনিময়ে তাদের দৈনিক মজুরি মাত্র তিনশত টাকা, যা দিয়ে এখন গ্রামাঞ্চলেও কেউ সারা দিন কাজ করে না। এই বয়সে যখন অন্য বাচ্চারা মাঠে খেলাধুলা করে, তখন এরা ক্যানটিনের ভেতরে কাজ করে বা বাজার করে।”

​এই অমানবিক জীবনযাপনের কারণে শিশুদের মনস্তত্ত্বে ও শারীরিক-মানসিক বিকাশে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং কীভাবে সবার সম্মিলিত দায়বদ্ধতা থেকে এই সংকটের সমাধান করা যায়, তা নিয়ে প্রদর্শনীর পাশাপাশি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজক।

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাবিতে শিশুশ্রমের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে চলমান শিশুশ্রমের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের ক্যানটিনে এই প্রদর্শনী শুরু হয়। আগামী পাঁচ দিন সকাল দশটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন।

প্রদর্শনীটির আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ রহমান। তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসের বড় বড় নেতা, জাকসু ও হল সংসদের নেতাদের অনেকেই আল বেরুনী হলে থাকেন এবং প্রতিনিয়ত এই ক্যানটিনে খাবার খান। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরাও খাচ্ছি। কিন্তু যেসব বাচ্চাদের হাত থেকে খাবারটা গ্রহণ করছি, এই বাচ্চাদের তো আমাদের মতো পড়াশোনা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা কাজ করছে। তাদের কোন বাধ্যবাধকতা আছে দেখেই হয়তো কাজ করতে হচ্ছে, তাই তাদের হঠাৎ ছাঁটাই করে দেওয়াও সম্ভব নয়। তাহলে এই সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব এবং এর জন্য আসলে দায়ী কারা? ক্যানটিন বয়দের হাত থেকে খাবার খেতে গিয়ে আমার যে অপরাধবোধ কাজ করে, বাকিদেরও সেই অনুভূতি হয় কি না, তা জানতেই আমি এই প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছি।”

প্রদর্শনীতে ভিন্ন রঙ ব্যবহার করে ভিজ্যুয়াল কনট্রাস্টের মাধ্যমে দুটি আলাদা শ্রেণির বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে। আসিফ রহমান জানান, ক্যানটিন বয়দের ছবিগুলো আঁকা হয়েছে নীল রঙে, যা তাদের বিষণ্ণ অবস্থাকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের ছবিগুলো কমলা রঙে আঁকা হয়েছে। কমলা রঙ চোখে অস্বস্তি তৈরি করে, এতে করে দর্শকদের সরাসরি ক্যানটিন বয়দের ছবিগুলোর দিকে মনযোগ যায় এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগহীনতার বিষয়টি ফুটে ওঠে।

​ক্যানটিনে কর্মরত শিশুদের অমানবিক পরিশ্রমের চিত্র তুলে ধরে এই আসিফ আরও বলেন, “এই শিশুদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই। সকালে কাজ শুরু করে বিকেল পর্যন্ত থাকে। আবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত কাজ করে। বিনিময়ে তাদের দৈনিক মজুরি মাত্র তিনশত টাকা, যা দিয়ে এখন গ্রামাঞ্চলেও কেউ সারা দিন কাজ করে না। এই বয়সে যখন অন্য বাচ্চারা মাঠে খেলাধুলা করে, তখন এরা ক্যানটিনের ভেতরে কাজ করে বা বাজার করে।”

​এই অমানবিক জীবনযাপনের কারণে শিশুদের মনস্তত্ত্বে ও শারীরিক-মানসিক বিকাশে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং কীভাবে সবার সম্মিলিত দায়বদ্ধতা থেকে এই সংকটের সমাধান করা যায়, তা নিয়ে প্রদর্শনীর পাশাপাশি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজক।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা