চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ দালালচক্রের বিরুদ্ধে। আবেদনের চার মাস পার হলেও পাসপোর্ট না পেয়ে উল্টো হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, পাসপোর্ট তৈরির সরকারি আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে এই চক্রটি নিয়মিত ফাঁদ পাতছে। পাসপোর্ট অফিস চত্বরে প্রবেশের আগেই আবেদনকারীদের পথ আটকে নানা সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। আবেদন ফরম পূরণ, তথাকথিত কাগজপত্রের ঘাটতি মেটানো এবং দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট হাতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত টাকা চুক্তি করা হয়। অনেক সময় আবেদনকারীদের মূল কাগজপত্র নিজেদের কব্জায় রেখে পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ভিমরুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। স্থানীয়দের তথ্যমতে, অফিসের বাইরে ও আশপাশের এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত দালাল প্রতিনিয়ত ওঁৎ পেতে থাকে এবং নতুন আবেদনকারী দেখলেই প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কব্জায় নিয়ে নেয়।
এমনই এক সংঘবদ্ধ প্রতারণার শিকার হয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত ইসরাফিল মল্লিকের ছেলে এনামুল হক। ভারতে জরুরি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট করতে এসে তিনি এই ভোগান্তিতে পড়েন।
ভুক্তভোগী এনামুল হক জানান, পাসপোর্ট অফিসে প্রবেশের মুখেই সিরাজুল ইসলাম নামে এক দালাল তাঁর কাগজপত্র কেড়ে নেন এবং দ্রুত পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার চুক্তিতে প্রথমে ১২ হাজার টাকা নেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও পাসপোর্ট না মেলায় যোগাযোগ করা হলে পাসপোর্টে 'জটিলতা' রয়েছে অজুহাত দেখিয়ে সিরাজুল আরও ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে তিনি দ্বিতীয় দফায় আরও ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
সর্বমোট ২৪ হাজার টাকা নেওয়ার পরও দীর্ঘ চার মাস ধরে তিনি ঘুরছেন, কিন্তু পাসপোর্ট হাতে পাননি। বর্তমানে ওই দালালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাসপোর্ট দিতে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আগের টাকা ফেরত চাইলে ফোনে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনামুল হক বলেন, "আমি পাসপোর্টের নিয়মকানুন বুঝি না। চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভারত যাওয়া দরকার ছিল। এই সুযোগে চার মাস ধরে আমার ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পাসপোর্ট না দিয়ে আরও টাকা চাচ্ছে এবং ফোনে হুমকি দিচ্ছে।"
একই পাসপোর্ট অফিসে আসা আরেক আবেদনকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, 'প্রতিদিন দ্রুত সেবার নামে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রক্রিয়া সহজ হলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই এমন আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।'
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'আমি একা নই, চুয়াডাঙ্গার ওপরের লেভেলের লোকজনের মাধ্যমে কাজ করি। ফাইলপ্রতি অল্প কিছু কমিশন রাখি। এনামুল সাহেবের কাছ থেকে নেওয়া টাকার সিংহভাগই আমি যাদের মাধ্যমে কাজ করি তাদের দিয়েছি। প্রয়োজনে সামনে মুখোমুখি বসে বিষয়টি ফয়সালা করা যাবে।'
বিষয়টি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম জাকির হোসেন জানান, 'পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিলেই সেবা পাওয়া যায়। কোনো মাধ্যম বা দালালের কাছে যাওয়া সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। তিনি বলেন, "আমরা অফিসে নোটিশ বোর্ড ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নিয়মিত সতর্ক করি যাতে কেউ দালালের হাতে টাকা বা মূল কাগজপত্র না দেন। দালালচক্রের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।'

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ দালালচক্রের বিরুদ্ধে। আবেদনের চার মাস পার হলেও পাসপোর্ট না পেয়ে উল্টো হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, পাসপোর্ট তৈরির সরকারি আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে এই চক্রটি নিয়মিত ফাঁদ পাতছে। পাসপোর্ট অফিস চত্বরে প্রবেশের আগেই আবেদনকারীদের পথ আটকে নানা সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। আবেদন ফরম পূরণ, তথাকথিত কাগজপত্রের ঘাটতি মেটানো এবং দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট হাতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত টাকা চুক্তি করা হয়। অনেক সময় আবেদনকারীদের মূল কাগজপত্র নিজেদের কব্জায় রেখে পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ভিমরুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। স্থানীয়দের তথ্যমতে, অফিসের বাইরে ও আশপাশের এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত দালাল প্রতিনিয়ত ওঁৎ পেতে থাকে এবং নতুন আবেদনকারী দেখলেই প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কব্জায় নিয়ে নেয়।
এমনই এক সংঘবদ্ধ প্রতারণার শিকার হয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত ইসরাফিল মল্লিকের ছেলে এনামুল হক। ভারতে জরুরি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট করতে এসে তিনি এই ভোগান্তিতে পড়েন।
ভুক্তভোগী এনামুল হক জানান, পাসপোর্ট অফিসে প্রবেশের মুখেই সিরাজুল ইসলাম নামে এক দালাল তাঁর কাগজপত্র কেড়ে নেন এবং দ্রুত পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার চুক্তিতে প্রথমে ১২ হাজার টাকা নেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও পাসপোর্ট না মেলায় যোগাযোগ করা হলে পাসপোর্টে 'জটিলতা' রয়েছে অজুহাত দেখিয়ে সিরাজুল আরও ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে তিনি দ্বিতীয় দফায় আরও ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
সর্বমোট ২৪ হাজার টাকা নেওয়ার পরও দীর্ঘ চার মাস ধরে তিনি ঘুরছেন, কিন্তু পাসপোর্ট হাতে পাননি। বর্তমানে ওই দালালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাসপোর্ট দিতে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আগের টাকা ফেরত চাইলে ফোনে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনামুল হক বলেন, "আমি পাসপোর্টের নিয়মকানুন বুঝি না। চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভারত যাওয়া দরকার ছিল। এই সুযোগে চার মাস ধরে আমার ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পাসপোর্ট না দিয়ে আরও টাকা চাচ্ছে এবং ফোনে হুমকি দিচ্ছে।"
একই পাসপোর্ট অফিসে আসা আরেক আবেদনকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, 'প্রতিদিন দ্রুত সেবার নামে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রক্রিয়া সহজ হলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই এমন আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।'
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'আমি একা নই, চুয়াডাঙ্গার ওপরের লেভেলের লোকজনের মাধ্যমে কাজ করি। ফাইলপ্রতি অল্প কিছু কমিশন রাখি। এনামুল সাহেবের কাছ থেকে নেওয়া টাকার সিংহভাগই আমি যাদের মাধ্যমে কাজ করি তাদের দিয়েছি। প্রয়োজনে সামনে মুখোমুখি বসে বিষয়টি ফয়সালা করা যাবে।'
বিষয়টি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম জাকির হোসেন জানান, 'পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিলেই সেবা পাওয়া যায়। কোনো মাধ্যম বা দালালের কাছে যাওয়া সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। তিনি বলেন, "আমরা অফিসে নোটিশ বোর্ড ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নিয়মিত সতর্ক করি যাতে কেউ দালালের হাতে টাকা বা মূল কাগজপত্র না দেন। দালালচক্রের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।'

আপনার মতামত লিখুন