বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ‘ধাতিনা ভোল’ মাছ। মাছটি বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে প্রায় ১৬ হাজার ১৩৬ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদারের আড়তে মাছটি বিক্রি হয়। মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর মাছটি কিনে নেন।
এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেনের মালিকানাধীন ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।
ট্রলারের মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার আগে শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলি। রাতে জাল টানার সময় ধাতিনা ভোল মাছটি পাই। এত বড় ও দামি মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।মাছটির ক্রেতা ব্যবসায়ী হারুন মীর বলেন,এই মাছের মণ প্রায় ৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২২ কেজি ওজনের মাছটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছি। এখন বরফ দিয়ে মাছটি বড় মোকামে নেওয়া হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। আশা করছি, মাছটি বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারব।উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন,কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ফাঁসের জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ায় অনেক মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে যায়। অনেক বছর পর ২২ কেজি ওজনের ধাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। মাছটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন বড় মাছ পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ধাতিনা ভোল মাছের পটকার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর পটকা উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। মাছের পটকা ওষুধ প্রস্তুত, চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা (Surgical Thread) এবং প্রসাধনী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।বিরল এই মাছটি দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। মাছটির আকার ও দাম নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,এত বড় ধাতিনা ভোল মাছ আগে কখনো সরাসরি দেখিনি। মাছটির দামও যে এত বেশি, সেটাও জানা ছিল না। খবর পেয়ে কৌতূহল নিয়ে দেখতে এসেছি। মাছটি এক নজর দেখতে এখানে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন।
স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মাঝেমধ্যে এমন বিরল ও মূল্যবান মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। আর বড় আকারের এমন মাছ ধরা পড়লে তা জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ‘ধাতিনা ভোল’ মাছ। মাছটি বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে প্রায় ১৬ হাজার ১৩৬ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদারের আড়তে মাছটি বিক্রি হয়। মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর মাছটি কিনে নেন।
এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেনের মালিকানাধীন ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।
ট্রলারের মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার আগে শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলি। রাতে জাল টানার সময় ধাতিনা ভোল মাছটি পাই। এত বড় ও দামি মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।মাছটির ক্রেতা ব্যবসায়ী হারুন মীর বলেন,এই মাছের মণ প্রায় ৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২২ কেজি ওজনের মাছটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছি। এখন বরফ দিয়ে মাছটি বড় মোকামে নেওয়া হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। আশা করছি, মাছটি বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারব।উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন,কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ফাঁসের জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ায় অনেক মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে যায়। অনেক বছর পর ২২ কেজি ওজনের ধাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। মাছটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন বড় মাছ পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ধাতিনা ভোল মাছের পটকার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর পটকা উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। মাছের পটকা ওষুধ প্রস্তুত, চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা (Surgical Thread) এবং প্রসাধনী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।বিরল এই মাছটি দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। মাছটির আকার ও দাম নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,এত বড় ধাতিনা ভোল মাছ আগে কখনো সরাসরি দেখিনি। মাছটির দামও যে এত বেশি, সেটাও জানা ছিল না। খবর পেয়ে কৌতূহল নিয়ে দেখতে এসেছি। মাছটি এক নজর দেখতে এখানে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন।
স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মাঝেমধ্যে এমন বিরল ও মূল্যবান মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। আর বড় আকারের এমন মাছ ধরা পড়লে তা জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

আপনার মতামত লিখুন