বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

রাজনীতি

‘শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ন্যস্ত করা নয়া ফ্যাসিবাদের বার্তা’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
‘শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ন্যস্ত করা নয়া ফ্যাসিবাদের বার্তা’
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে শাখা সভাপতি সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সেক্রেটারি মনসুরুল হক শান্ত এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষক নিয়োগ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুগ্রহ, রাজনৈতিক দলের ক্যাডার তৈরির প্রকল্প কিংবা ম্যানেজিং কমিটির ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বাস্তবায়নের ক্ষেত্র হতে পারে না। একজন শিক্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের কারিগর। তাই শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় আনুগত্য কিংবা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলে তা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে।

তারা বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নির্বাচনের লক্ষ্যে এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের নিবন্ধন, প্রত্যয়ন ও তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বড় অংশ এমন কমিটির হাতে দেওয়া হলে স্থানীয় প্রভাব, রাজনৈতিক আনুগত্য ও ব্যক্তিস্বার্থের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশঙ্কা বাড়বে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় আরোহণের সিঁড়ি ছিল না। বৈষম্য, অন্যায়, দুঃশাসন, দলীয়করণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ ছিল জুলাইয়ের আন্দোলন। এর অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল দল-মত ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে ম্যানেজিং কমিটির রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হলে তা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষমতার পালাবদল মানেই ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়। পুরোনো দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যের সংস্কৃতি বহাল থাকলে জনগণের কাছে সেই পরিবর্তনের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তারা শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা, ব্যক্তিগত সুপারিশের পরিবর্তে যোগ্যতা, অর্থের বিনিময়ের পরিবর্তে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা এবং দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে পেশাগত দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্য, অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


‘শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ন্যস্ত করা নয়া ফ্যাসিবাদের বার্তা’

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে শাখা সভাপতি সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সেক্রেটারি মনসুরুল হক শান্ত এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষক নিয়োগ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুগ্রহ, রাজনৈতিক দলের ক্যাডার তৈরির প্রকল্প কিংবা ম্যানেজিং কমিটির ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বাস্তবায়নের ক্ষেত্র হতে পারে না। একজন শিক্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের কারিগর। তাই শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় আনুগত্য কিংবা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলে তা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে।

তারা বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নির্বাচনের লক্ষ্যে এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের নিবন্ধন, প্রত্যয়ন ও তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বড় অংশ এমন কমিটির হাতে দেওয়া হলে স্থানীয় প্রভাব, রাজনৈতিক আনুগত্য ও ব্যক্তিস্বার্থের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশঙ্কা বাড়বে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় আরোহণের সিঁড়ি ছিল না। বৈষম্য, অন্যায়, দুঃশাসন, দলীয়করণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ ছিল জুলাইয়ের আন্দোলন। এর অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল দল-মত ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে ম্যানেজিং কমিটির রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হলে তা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষমতার পালাবদল মানেই ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়। পুরোনো দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যের সংস্কৃতি বহাল থাকলে জনগণের কাছে সেই পরিবর্তনের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তারা শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা, ব্যক্তিগত সুপারিশের পরিবর্তে যোগ্যতা, অর্থের বিনিময়ের পরিবর্তে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা এবং দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে পেশাগত দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্য, অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা