বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

জাবিতে পরিত্যক্ত চৌবাচ্চায় আটকে পড়া শেয়াল উদ্ধার

জাবিতে পরিত্যক্ত চৌবাচ্চায় আটকে পড়া শেয়াল উদ্ধার
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) একটি পরিত্যক্ত চৌবাচ্চায় আটকে পড়া একটি শেয়াল উদ্ধার করেছেন ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন’ জাবি শাখার স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ভবনের পেছনের একটি চৌবাচ্চা থেকে শেয়ালটিকে উদ্ধার করে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।

​ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও ডিপ ইকোলজি জাবি শাখার স্বেচ্ছাসেবী সুমাইয়া ঐশী বলেন, “গতকাল বেলা তিনটার দিকে আমাদের হটলাইন নম্বরে একটি কল আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটির (ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি) এক গার্ড মামা সমাজবিজ্ঞান ভবনের পেছনে ময়লা ও বৃষ্টির পানি জমে থাকা একটি পরিত্যক্ত চৌবাচ্চায় শেয়ালটিকে আটকে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি একটি গাছের ভাঙা ডাল দিয়ে শেয়ালটিকে একা উঠে আসার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরও শেয়ালটি উঠতে না পারায় তিনি আইআইটির শিক্ষক আক্কাস স্যারকে জানান এবং স্যার আমাদের হটলাইনে কল দেন।”

​উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে সুমাইয়া ঐশী আরও বলেন, “খবর পেয়ে ডিপ ইকোলজির চেয়ারম্যান মাহফুজ ভাই আমাকে এবং আরেক স্বেচ্ছাসেবক শুভ্রকে ডাকেন। আমি প্রথমে গিয়ে জায়গাটা খুঁজে বের করি এবং দেখি শেয়ালটির অর্ধেক শরীর পানিতে ডুবে আছে। এরপর মাহফুজ ভাই প্রাণী ধরার ক্যাচার নিয়ে আসেন। আমরা তিনজন মিলে শেয়ালটিকে ক্যাচারে ঢোকানোর চেষ্টা করি। কিন্তু শেয়ালটি বেশ ভয় পেয়েছিল এবং কোনোভাবেই ক্যাচারে ঢুকতে চাচ্ছিল না। যেহেতু এটি একটি পূর্ণবয়স্ক শেয়াল ছিল এবং শরীরে কোনো আঘাত ছিল না, তাই এর অনেক শক্তি ছিল। পরে ওই গার্ড মামা দুটি শক্ত বাঁশ জোগাড় করে দেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর বাঁশ দিয়ে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে শেয়ালটিকে আমরা ক্যাচারের ভেতরে ঢোকাতে সক্ষম হই।”

​শেয়ালটিকে অবমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “উদ্ধার করার পর গার্ড মামা জানান, আইআইটির পেছনের দিকে পাকুতলা সংলগ্ন জঙ্গল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় শেয়ালগুলো বেরিয়ে আসে। তাঁর কথা অনুযায়ী শেয়ালটিকে তার সেই পুরোনো আবাসস্থলে নিয়ে আমরা অবমুক্ত করে দিই। শেয়ালটি একদম সুস্থভাবে নিজে নিজেই জঙ্গলে ফিরে যায়।”

​এদিকে ক্যাম্পাসের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় কাজ করলেও সংগঠনের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন ডিপ ইকোলজি জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া। তিনি বলেন, “যে কাজে রাষ্ট্রের বেতনপ্রাপ্তদেরও সব সময় পাওয়া যায় না, তা ডিপ ইকোলজির স্বেচ্ছাসেবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করে চলেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণপ্রকৃতির সুরক্ষায়, যেকোনো উদ্ধারের প্রয়োজনে ডিপ ইকোলজি নামটাই গত আট বছর ধরে সবার কাছে ভরসার। অথচ দুঃখজনকভাবে বছরের পর বছর চিঠি দিয়েও, টিএসসি নিবন্ধিত হয়েও ডিপ ইকোলজি একটা রুম পাচ্ছে না যেখানে প্রাণীকে রেখে প্রাথমিক সেবা দেওয়া যাবে, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম রাখা যাবে এবং উদ্ধারকারীদের নিয়মিত সেশন হবে। ভাড়া বাসার খরচের বাড়তি চাপ আমাদের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ​প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “এমতাবস্থায় আমরা উপাচার্য মহোদয়, টিএসসির পরিচালক, জাকসু ভিপিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন ক্যাম্পাসের প্রাণপ্রকৃতির সুরক্ষার খাতিরে আমাদের রুমের আবেদনকে প্রশাসনিক জটিলতা থেকে মুক্ত করা হয়।”

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


জাবিতে পরিত্যক্ত চৌবাচ্চায় আটকে পড়া শেয়াল উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) একটি পরিত্যক্ত চৌবাচ্চায় আটকে পড়া একটি শেয়াল উদ্ধার করেছেন ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন’ জাবি শাখার স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ভবনের পেছনের একটি চৌবাচ্চা থেকে শেয়ালটিকে উদ্ধার করে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।

​ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও ডিপ ইকোলজি জাবি শাখার স্বেচ্ছাসেবী সুমাইয়া ঐশী বলেন, “গতকাল বেলা তিনটার দিকে আমাদের হটলাইন নম্বরে একটি কল আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটির (ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি) এক গার্ড মামা সমাজবিজ্ঞান ভবনের পেছনে ময়লা ও বৃষ্টির পানি জমে থাকা একটি পরিত্যক্ত চৌবাচ্চায় শেয়ালটিকে আটকে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি একটি গাছের ভাঙা ডাল দিয়ে শেয়ালটিকে একা উঠে আসার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরও শেয়ালটি উঠতে না পারায় তিনি আইআইটির শিক্ষক আক্কাস স্যারকে জানান এবং স্যার আমাদের হটলাইনে কল দেন।”

​উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে সুমাইয়া ঐশী আরও বলেন, “খবর পেয়ে ডিপ ইকোলজির চেয়ারম্যান মাহফুজ ভাই আমাকে এবং আরেক স্বেচ্ছাসেবক শুভ্রকে ডাকেন। আমি প্রথমে গিয়ে জায়গাটা খুঁজে বের করি এবং দেখি শেয়ালটির অর্ধেক শরীর পানিতে ডুবে আছে। এরপর মাহফুজ ভাই প্রাণী ধরার ক্যাচার নিয়ে আসেন। আমরা তিনজন মিলে শেয়ালটিকে ক্যাচারে ঢোকানোর চেষ্টা করি। কিন্তু শেয়ালটি বেশ ভয় পেয়েছিল এবং কোনোভাবেই ক্যাচারে ঢুকতে চাচ্ছিল না। যেহেতু এটি একটি পূর্ণবয়স্ক শেয়াল ছিল এবং শরীরে কোনো আঘাত ছিল না, তাই এর অনেক শক্তি ছিল। পরে ওই গার্ড মামা দুটি শক্ত বাঁশ জোগাড় করে দেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর বাঁশ দিয়ে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে শেয়ালটিকে আমরা ক্যাচারের ভেতরে ঢোকাতে সক্ষম হই।”

​শেয়ালটিকে অবমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “উদ্ধার করার পর গার্ড মামা জানান, আইআইটির পেছনের দিকে পাকুতলা সংলগ্ন জঙ্গল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় শেয়ালগুলো বেরিয়ে আসে। তাঁর কথা অনুযায়ী শেয়ালটিকে তার সেই পুরোনো আবাসস্থলে নিয়ে আমরা অবমুক্ত করে দিই। শেয়ালটি একদম সুস্থভাবে নিজে নিজেই জঙ্গলে ফিরে যায়।”

​এদিকে ক্যাম্পাসের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় কাজ করলেও সংগঠনের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন ডিপ ইকোলজি জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া। তিনি বলেন, “যে কাজে রাষ্ট্রের বেতনপ্রাপ্তদেরও সব সময় পাওয়া যায় না, তা ডিপ ইকোলজির স্বেচ্ছাসেবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করে চলেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণপ্রকৃতির সুরক্ষায়, যেকোনো উদ্ধারের প্রয়োজনে ডিপ ইকোলজি নামটাই গত আট বছর ধরে সবার কাছে ভরসার। অথচ দুঃখজনকভাবে বছরের পর বছর চিঠি দিয়েও, টিএসসি নিবন্ধিত হয়েও ডিপ ইকোলজি একটা রুম পাচ্ছে না যেখানে প্রাণীকে রেখে প্রাথমিক সেবা দেওয়া যাবে, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম রাখা যাবে এবং উদ্ধারকারীদের নিয়মিত সেশন হবে। ভাড়া বাসার খরচের বাড়তি চাপ আমাদের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ​প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “এমতাবস্থায় আমরা উপাচার্য মহোদয়, টিএসসির পরিচালক, জাকসু ভিপিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন ক্যাম্পাসের প্রাণপ্রকৃতির সুরক্ষার খাতিরে আমাদের রুমের আবেদনকে প্রশাসনিক জটিলতা থেকে মুক্ত করা হয়।”


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা