বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

সাবেকদের চোখে স্বপ্নের কুবি

ক্যাম্পাস ছাড়লেও ফুরায়নি টান

ক্যাম্পাস ছাড়লেও ফুরায়নি টান
ছবি: বিপ্লবী বার্তা

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আসলে কয়েকটি বছর নয়; এটি এক জীবনের সমান অনুভূতির নাম। সময়ের সঙ্গে ক্লাসরুম বদলে যায়, ব্যস্ততা বেড়ে যায়, জীবনের পথও ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। কিন্তু কিছু জায়গা মানুষকে কখনো ছেড়ে যায় না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও অনেকের কাছে ঠিক তেমনই–এক টুকরো অনুভূতি, যেখানে এখনো রয়ে গেছে প্রথম দিনের ভয়, প্রথম বন্ধুত্ব, বিকেলের আড্ডা, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর স্বপ্নে ভরা অসংখ্য দিন।

ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার পরও হঠাৎ কোনো ছবি, কোনো স্মৃতি কিংবা পরিচিত কোনো নাম শুনলে মনটা ফিরে যেতে চায় সেই লালমাটির পথে। দূরে থাকলেও প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি অর্জন যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি এর ভবিষ্যৎ নিয়ে জন্ম দেয় নতুন স্বপ্ন। কারণ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সাবেকদের ফেলে আসা একটি অধ্যায় নয়, এটি তাদের হৃদয়ের এমন একটি জায়গা, যার সঙ্গে সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে কমে না, বরং আরও গভীর হয়।

সময় বদলেছে, বদলেছে ক্যাম্পাসও। নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণা, প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক চর্চা, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে চলার নানা উদ্যোগ তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা। তবে সাবেক শিক্ষার্থীদের চোখে কুবির জন্য প্রত্যাশাও কম নয়। তারা দেখতে চান এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়; গবেষণা, শিক্ষার মান, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশেও হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী তুলে ধরেছেন তাদের নিজেদের প্রিয় ক্যাম্পাস নিয়ে অনুভূতি ও ক্যাম্পাসের প্রতি তাদের প্রত্যাশার গল্প।

পড়াশোনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ইংরেজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত তারিন বিনতে এনাম বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গর্বিত অ্যালামনাই ও বর্তমান শিক্ষক হিসেবে আমি আগামীর কুবিকে আধুনিক, গবেষণামুখী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাধর্মী কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, উচ্চশিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত 'চাকরির মেলা' আয়োজন সময়ের দাবি।

তিনি আরো বলেন, 'ওবিই কারিকুলামের সঙ্গে বাস্তব দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চাই, যারা দক্ষ পেশাজীবীর পাশাপাশি সত্যিকারের বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক এবং বিভাগটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. সাফায়েত হোসাইন বলেন, 'শুরু থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমার আলাদা ভালোবাসা ও আন্তরিকতা কাজ করেছে। ছাত্রজীবন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি, আর আজ শিক্ষক হিসেবে সেই পথচলার অংশ হতে পেরে ভালো লাগে।'

তিনি আরো বলেন, 'আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের ‘এ’ ক্যাটাগরির একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'

মধুপোক বই প্রকাশনীতে কর্মরত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মারজিয়া আহমেদ রিয়া বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে শুধু একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটা আমার হাজারো স্মৃতি, আড্ডা, বন্ধুত্ব আর আমার আজকের এই আত্মপরিচয়ের আঁতুড়ঘর। ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, কুবি একদিন আরও সমৃদ্ধ, গবেষণামুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

আমি চাই বর্তমান শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীল পরিবেশে নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পাক। পাশাপাশি শিক্ষার মান, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চাও আরও সমৃদ্ধ হোক।"

বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবুল কালাম বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে আবেগময় একটি অধ্যায়। ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকলেও কুবির স্মৃতিগুলো এখনো একইভাবে হৃদয়ে রয়ে গেছে।'

তিনি আরো বলেন, 'বর্তমান কুবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা সত্যিই ভালো লাগে। আমরা চাই, কুবি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়; গবেষণা, শিক্ষার মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গাতেও দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক।'

ক্যাম্পাসে প্রতিদিন নতুন শিক্ষার্থীরা আসে, নতুন গল্প তৈরি হয়, নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো পুরোনো হয় না। সাবেকদের চোখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তাই শুধু স্মৃতির জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যতেরও একটি স্বপ্ন- যে স্বপ্ন একদিন আরও বড়ো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও গর্বের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প বলবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


ক্যাম্পাস ছাড়লেও ফুরায়নি টান

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আসলে কয়েকটি বছর নয়; এটি এক জীবনের সমান অনুভূতির নাম। সময়ের সঙ্গে ক্লাসরুম বদলে যায়, ব্যস্ততা বেড়ে যায়, জীবনের পথও ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। কিন্তু কিছু জায়গা মানুষকে কখনো ছেড়ে যায় না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও অনেকের কাছে ঠিক তেমনই–এক টুকরো অনুভূতি, যেখানে এখনো রয়ে গেছে প্রথম দিনের ভয়, প্রথম বন্ধুত্ব, বিকেলের আড্ডা, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর স্বপ্নে ভরা অসংখ্য দিন।

ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার পরও হঠাৎ কোনো ছবি, কোনো স্মৃতি কিংবা পরিচিত কোনো নাম শুনলে মনটা ফিরে যেতে চায় সেই লালমাটির পথে। দূরে থাকলেও প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি অর্জন যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি এর ভবিষ্যৎ নিয়ে জন্ম দেয় নতুন স্বপ্ন। কারণ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সাবেকদের ফেলে আসা একটি অধ্যায় নয়, এটি তাদের হৃদয়ের এমন একটি জায়গা, যার সঙ্গে সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে কমে না, বরং আরও গভীর হয়।

সময় বদলেছে, বদলেছে ক্যাম্পাসও। নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণা, প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক চর্চা, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে চলার নানা উদ্যোগ তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা। তবে সাবেক শিক্ষার্থীদের চোখে কুবির জন্য প্রত্যাশাও কম নয়। তারা দেখতে চান এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়; গবেষণা, শিক্ষার মান, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশেও হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী তুলে ধরেছেন তাদের নিজেদের প্রিয় ক্যাম্পাস নিয়ে অনুভূতি ও ক্যাম্পাসের প্রতি তাদের প্রত্যাশার গল্প।

পড়াশোনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ইংরেজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত তারিন বিনতে এনাম বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গর্বিত অ্যালামনাই ও বর্তমান শিক্ষক হিসেবে আমি আগামীর কুবিকে আধুনিক, গবেষণামুখী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাধর্মী কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, উচ্চশিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত 'চাকরির মেলা' আয়োজন সময়ের দাবি।

তিনি আরো বলেন, 'ওবিই কারিকুলামের সঙ্গে বাস্তব দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চাই, যারা দক্ষ পেশাজীবীর পাশাপাশি সত্যিকারের বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক এবং বিভাগটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. সাফায়েত হোসাইন বলেন, 'শুরু থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমার আলাদা ভালোবাসা ও আন্তরিকতা কাজ করেছে। ছাত্রজীবন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি, আর আজ শিক্ষক হিসেবে সেই পথচলার অংশ হতে পেরে ভালো লাগে।'

তিনি আরো বলেন, 'আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের ‘এ’ ক্যাটাগরির একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'

মধুপোক বই প্রকাশনীতে কর্মরত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মারজিয়া আহমেদ রিয়া বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে শুধু একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটা আমার হাজারো স্মৃতি, আড্ডা, বন্ধুত্ব আর আমার আজকের এই আত্মপরিচয়ের আঁতুড়ঘর। ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, কুবি একদিন আরও সমৃদ্ধ, গবেষণামুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

আমি চাই বর্তমান শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীল পরিবেশে নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পাক। পাশাপাশি শিক্ষার মান, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চাও আরও সমৃদ্ধ হোক।"

বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবুল কালাম বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে আবেগময় একটি অধ্যায়। ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকলেও কুবির স্মৃতিগুলো এখনো একইভাবে হৃদয়ে রয়ে গেছে।'

তিনি আরো বলেন, 'বর্তমান কুবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা সত্যিই ভালো লাগে। আমরা চাই, কুবি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়; গবেষণা, শিক্ষার মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গাতেও দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক।'

ক্যাম্পাসে প্রতিদিন নতুন শিক্ষার্থীরা আসে, নতুন গল্প তৈরি হয়, নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো পুরোনো হয় না। সাবেকদের চোখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তাই শুধু স্মৃতির জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যতেরও একটি স্বপ্ন- যে স্বপ্ন একদিন আরও বড়ো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও গর্বের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প বলবে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা