"স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার..." বহুল পরিচিত এই গানের সুরটি যেন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে। দীর্ঘ দুই মাস পর চেনা শহর, চেনা পরিবার আর মায়ের হাতের রান্নার টানে বাড়ি ফিরছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হাজারো শিক্ষার্থী।
আগামী ২৩ মে থেকে ক্যাম্পাস ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে ১৯ দিনের বন্ধ ঘোষণা করা হলেও, তার আগেই বৃহস্পতি ও শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলে যাওয়ায় বুধবার (২০ মে) দুপুর থেকেই ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।
তাদের আগমনে রাতের কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো মিনি ক্যাম্পাসে। প্ল্যাটফর্ম জুড়ে শুধু তরুণ-তরুণীদের কোলাহল, পিঠে ভারী ট্রাভেল ব্যাগ আর চোখে-মুখে বাড়ি ফেরার উপচে পড়া আনন্দ। সবার অপেক্ষা ঢাকাগামী ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের।
কোর্ট স্টেশনে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের নির্ধারিত সময় দুপুর ১:১৫ মিনিট হলেও, ট্রেন আসতে প্রায় আধা ঘণ্টা লেট। তবে এই বিলম্ব শিক্ষার্থীদের আনন্দের জোয়ারে বিন্দুমাত্র ভাটা ফেলতে পারেনি। বরং বিরক্তিকর এই সময়টুকুকে তারা রূপ দিয়েছে উৎসবের আমেজে।
স্টেশনের এক কোণে গিটারের তারে আঙুল ছুঁইয়ে কেউ ধরেছে চিরকুট বা আর্টসেলের গান, বাকিরা গলা মিলিয়ে মেতে উঠেছে গানের তালে তালে। ট্রাভেল ব্যাগের ওপর খাতা পেতে চার-পাঁচজন গোল হয়ে বসে পড়েছে লুডু খেলায়। চালের মাজেজা আর ছক্কা তোলার চিৎকারে মুখর চারপাশ। রাত গভীর হতেই স্টেশনে মশার তীব্রতা বাড়লো। তবে দমে যাওয়ার পাত্র তো তারা নয়! ব্যাগ থেকে মশার কয়েল বের করে জ্বালিয়ে, ধোঁয়া উড়িয়েই চলল দেদার আড্ডা।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই বাড়ি ফেরাটা আর দশটা সাধারণ ভ্রমণের মতো নয়। ক্যাম্পাসের ব্যস্ত সূচি, ক্লাস-পরীক্ষার চাপ সামলে ঈদের এই লম্বা ছুটিটাই যেন একমাত্র ফুসরত। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে থাকি। ঈদের ছুটি ব্যতিত তেমন বাড়ি যাওয়া হয় না। বছরের দুই ঈদেই ক্যাম্পাসে লম্বা সময় ধরে ছুটি পাওয়া যায়। তাই এ সময়টায় বাড়ি যাওয়ার জন্য মনের ভেতরে একটা অতিরিক্ত আগ্রহ আর টান কাজ করে।
কোর্ট স্টেশনের চেনা চায়ের দোকানদারদের ব্যস্ততা আজ কয়েক গুণ বেশি। শিক্ষার্থীদের এই কোলাহল তাদের মুখেও ফুটিয়েছে হাসির ঝিলিক। কেউ ট্রেনের টিকিট পকেটে পুরে বারবার ঘড়ি দেখছে, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে বন্ধুদের সাথে ফ্রেমবন্দি করে রাখছে ট্রেনের অপেক্ষায় কাটানো এই সোনালী মুহূর্তগুলোকে।
অবশেষে যখন দূর থেকে কু ঝিকঝিক শব্দ আর ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল, তখন যেন পুরো স্টেশনে আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল। ব্যাগ কাঁধে ট্রেনের দরজায় ওঠার চিরাচরিত যুদ্ধ, জানালার পাশে সিট পাওয়ার আনন্দ, আর ট্রেনের চাকার ছন্দের সাথে সাথে বাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই সব মিলিয়েই তো তৈরি হয় ইবিয়ানদের ট্রেন যাত্রার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
"স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার..." বহুল পরিচিত এই গানের সুরটি যেন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে। দীর্ঘ দুই মাস পর চেনা শহর, চেনা পরিবার আর মায়ের হাতের রান্নার টানে বাড়ি ফিরছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হাজারো শিক্ষার্থী।
আগামী ২৩ মে থেকে ক্যাম্পাস ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে ১৯ দিনের বন্ধ ঘোষণা করা হলেও, তার আগেই বৃহস্পতি ও শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলে যাওয়ায় বুধবার (২০ মে) দুপুর থেকেই ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।
তাদের আগমনে রাতের কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো মিনি ক্যাম্পাসে। প্ল্যাটফর্ম জুড়ে শুধু তরুণ-তরুণীদের কোলাহল, পিঠে ভারী ট্রাভেল ব্যাগ আর চোখে-মুখে বাড়ি ফেরার উপচে পড়া আনন্দ। সবার অপেক্ষা ঢাকাগামী ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের।
কোর্ট স্টেশনে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের নির্ধারিত সময় দুপুর ১:১৫ মিনিট হলেও, ট্রেন আসতে প্রায় আধা ঘণ্টা লেট। তবে এই বিলম্ব শিক্ষার্থীদের আনন্দের জোয়ারে বিন্দুমাত্র ভাটা ফেলতে পারেনি। বরং বিরক্তিকর এই সময়টুকুকে তারা রূপ দিয়েছে উৎসবের আমেজে।
স্টেশনের এক কোণে গিটারের তারে আঙুল ছুঁইয়ে কেউ ধরেছে চিরকুট বা আর্টসেলের গান, বাকিরা গলা মিলিয়ে মেতে উঠেছে গানের তালে তালে। ট্রাভেল ব্যাগের ওপর খাতা পেতে চার-পাঁচজন গোল হয়ে বসে পড়েছে লুডু খেলায়। চালের মাজেজা আর ছক্কা তোলার চিৎকারে মুখর চারপাশ। রাত গভীর হতেই স্টেশনে মশার তীব্রতা বাড়লো। তবে দমে যাওয়ার পাত্র তো তারা নয়! ব্যাগ থেকে মশার কয়েল বের করে জ্বালিয়ে, ধোঁয়া উড়িয়েই চলল দেদার আড্ডা।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই বাড়ি ফেরাটা আর দশটা সাধারণ ভ্রমণের মতো নয়। ক্যাম্পাসের ব্যস্ত সূচি, ক্লাস-পরীক্ষার চাপ সামলে ঈদের এই লম্বা ছুটিটাই যেন একমাত্র ফুসরত। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে থাকি। ঈদের ছুটি ব্যতিত তেমন বাড়ি যাওয়া হয় না। বছরের দুই ঈদেই ক্যাম্পাসে লম্বা সময় ধরে ছুটি পাওয়া যায়। তাই এ সময়টায় বাড়ি যাওয়ার জন্য মনের ভেতরে একটা অতিরিক্ত আগ্রহ আর টান কাজ করে।
কোর্ট স্টেশনের চেনা চায়ের দোকানদারদের ব্যস্ততা আজ কয়েক গুণ বেশি। শিক্ষার্থীদের এই কোলাহল তাদের মুখেও ফুটিয়েছে হাসির ঝিলিক। কেউ ট্রেনের টিকিট পকেটে পুরে বারবার ঘড়ি দেখছে, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে বন্ধুদের সাথে ফ্রেমবন্দি করে রাখছে ট্রেনের অপেক্ষায় কাটানো এই সোনালী মুহূর্তগুলোকে।
অবশেষে যখন দূর থেকে কু ঝিকঝিক শব্দ আর ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল, তখন যেন পুরো স্টেশনে আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল। ব্যাগ কাঁধে ট্রেনের দরজায় ওঠার চিরাচরিত যুদ্ধ, জানালার পাশে সিট পাওয়ার আনন্দ, আর ট্রেনের চাকার ছন্দের সাথে সাথে বাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই সব মিলিয়েই তো তৈরি হয় ইবিয়ানদের ট্রেন যাত্রার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

আপনার মতামত লিখুন