ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা অংশে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অস্থায়ী দোকানিরা। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় ইতিপূর্বে এই দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হলেও, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও শুরু হয়েছে দখলদারিত্ব। এর ফলে প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
উপজেলার সিডস্টোর ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন ও মৌসুমি ফল নিয়ে বসেছেন অসংখ্য বিক্রেতা। ফুটপাত ও মূল সড়কের একটি বড় অংশ এভাবে বেদখল হয়ে যাওয়ায় চার লেনের এই ব্যস্ততম মহাসড়কটি কার্যত দুই পাশে মাত্র এক লেন করে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বাকি অংশ চলে গেছে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়ে সড়কটি এতটাই সরু হয়ে যায় যে, নিয়মিত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই যানজটের কবলে পড়ে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকেও রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ভালুকা উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ শিল্পকারখানা সিডস্টোর ও মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। ফলে সন্ধ্যার পর কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক যখন ছুটি শেষে বাড়ি ফেরেন, তখন এই কৃত্রিম যানজটের কারণে তাদের চরম বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সড়কের পাশে বসা অস্থায়ী দোকানি সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জামানত দিয়ে বড় বাজারে স্থায়ী দোকান নেওয়ার মতো পুঁজি আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাস্তার পাশেই বসি। তাছাড়া এখানে লোকসমাগম বেশি হওয়ায় বেচাকেনাও ভালো জমে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পর এই অঞ্চলের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হয়েছিল। কিন্তু এর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসতে শুরু করায় মহাসড়কে আবারও পুরোনো যানজটের চিত্র ফিরে আসে। উপজেলার প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কজুড়েই এখন এই সমস্যা একটি নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযান শেষ হতে না হতেই পুনরায় মহাসড়ক দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন জানান, “মহাসড়ক দখলকারী এই সব অবৈধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক ও ফুটপাত যানজটমুক্ত রাখতে দোকানিদের সরানোর এই প্রক্রিয়া ও নিয়মিত মনিটরিং চলমান রয়েছে।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা অংশে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অস্থায়ী দোকানিরা। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় ইতিপূর্বে এই দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হলেও, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও শুরু হয়েছে দখলদারিত্ব। এর ফলে প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
উপজেলার সিডস্টোর ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন ও মৌসুমি ফল নিয়ে বসেছেন অসংখ্য বিক্রেতা। ফুটপাত ও মূল সড়কের একটি বড় অংশ এভাবে বেদখল হয়ে যাওয়ায় চার লেনের এই ব্যস্ততম মহাসড়কটি কার্যত দুই পাশে মাত্র এক লেন করে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বাকি অংশ চলে গেছে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়ে সড়কটি এতটাই সরু হয়ে যায় যে, নিয়মিত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই যানজটের কবলে পড়ে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকেও রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ভালুকা উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ শিল্পকারখানা সিডস্টোর ও মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। ফলে সন্ধ্যার পর কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক যখন ছুটি শেষে বাড়ি ফেরেন, তখন এই কৃত্রিম যানজটের কারণে তাদের চরম বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সড়কের পাশে বসা অস্থায়ী দোকানি সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জামানত দিয়ে বড় বাজারে স্থায়ী দোকান নেওয়ার মতো পুঁজি আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাস্তার পাশেই বসি। তাছাড়া এখানে লোকসমাগম বেশি হওয়ায় বেচাকেনাও ভালো জমে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পর এই অঞ্চলের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হয়েছিল। কিন্তু এর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসতে শুরু করায় মহাসড়কে আবারও পুরোনো যানজটের চিত্র ফিরে আসে। উপজেলার প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কজুড়েই এখন এই সমস্যা একটি নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযান শেষ হতে না হতেই পুনরায় মহাসড়ক দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন জানান, “মহাসড়ক দখলকারী এই সব অবৈধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক ও ফুটপাত যানজটমুক্ত রাখতে দোকানিদের সরানোর এই প্রক্রিয়া ও নিয়মিত মনিটরিং চলমান রয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন