অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদত্যাগ দাবিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা।
সীমাহীন দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে প্রতিষ্ঠানটির দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
রাজধানীতে অবস্থিত এসডিএফ কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের সদস্যরা। এসময় তারা “এক দফা এক দাবি” স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা। আন্দোলনকারীরা এসডিএফ চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিনের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেজিলিয়েন্স, এন্ট্রাপ্রেনিওরশীপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট’ (RELI) প্রকল্পের কর্মকর্তারাও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও হুমকির মুখে পড়েছে।
আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে RELI প্রকল্পের আওতায় ৩২০০টি ল্যাপটপ ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির ঘটনা। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় ১৬ কোটি টাকার সর্বনিম্ন দরপত্র বাতিল করে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দ্বিগুণ মূল্যে নিম্নমানের ল্যাপটপ কেনা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের তদন্তাধীন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্য ও মানবসম্পদ নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসডিএফ-এর এইচআর পলিসি অনুযায়ী এমডি পদের বয়সসীমা ৬০ বছর হলেও চেয়ারম্যান তার পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে নিয়ম পরিবর্তন করে বয়সসীমা ৬২ বছর পর্যন্ত বাড়ান। পরে অভিজ্ঞ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নুরুল আমিনকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে অফিস স্থানান্তরের নামে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি এনডাওমেন্ট ফান্ডের অর্থও বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এসডিএফ কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান প্রশাসনের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত RELI প্রকল্পের কর্মীদের চাকরির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই চলতি মাসে প্রকল্প সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ায় শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের মূল্যায়ন না করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের অন্যায্য বদলি, শোকজ ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে RELI প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, “এসডিএফ মূলত দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ এখন সময়ের দাবি।”
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদত্যাগ দাবিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা।
সীমাহীন দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে প্রতিষ্ঠানটির দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
রাজধানীতে অবস্থিত এসডিএফ কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের সদস্যরা। এসময় তারা “এক দফা এক দাবি” স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা। আন্দোলনকারীরা এসডিএফ চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিনের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেজিলিয়েন্স, এন্ট্রাপ্রেনিওরশীপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট’ (RELI) প্রকল্পের কর্মকর্তারাও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও হুমকির মুখে পড়েছে।
আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে RELI প্রকল্পের আওতায় ৩২০০টি ল্যাপটপ ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির ঘটনা। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় ১৬ কোটি টাকার সর্বনিম্ন দরপত্র বাতিল করে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দ্বিগুণ মূল্যে নিম্নমানের ল্যাপটপ কেনা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের তদন্তাধীন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্য ও মানবসম্পদ নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসডিএফ-এর এইচআর পলিসি অনুযায়ী এমডি পদের বয়সসীমা ৬০ বছর হলেও চেয়ারম্যান তার পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে নিয়ম পরিবর্তন করে বয়সসীমা ৬২ বছর পর্যন্ত বাড়ান। পরে অভিজ্ঞ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নুরুল আমিনকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে অফিস স্থানান্তরের নামে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি এনডাওমেন্ট ফান্ডের অর্থও বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এসডিএফ কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান প্রশাসনের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত RELI প্রকল্পের কর্মীদের চাকরির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই চলতি মাসে প্রকল্প সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ায় শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের মূল্যায়ন না করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের অন্যায্য বদলি, শোকজ ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে RELI প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, “এসডিএফ মূলত দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ এখন সময়ের দাবি।”
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন