জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা কর্মচারী সংকট বিরাজ করছে। এতে অফিসটিতে প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তিনজনের কাজ করতে হচ্ছে একজনকে। দপ্তরে অন্তত ১১টি পদ শূন্য থাকলেও তা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
লোকবল সংকটের কারণে সঠিক সময়ে ফলাফল প্রকাশ করতে না পারায় শিক্ষার্থীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত ব্যক্তিরা।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও আজও সেই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউটের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্তত ২২টি ইভিনিং ও উইকেন্ড কোর্সের ফলাফল প্রস্তুত করতে হয় এই দপ্তরকে। লোকবল কমলেও কাজের চাপ বেড়েছে বহুগুণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত লোকবল নেই। পরীক্ষার সময়ে একজনকে অনেকগুলো বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ আটকে থাকার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।’
এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়ার চেয়েও বর্তমানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরকে অটোমেশন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বারবার প্রশাসনকে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা বর্তমান জাতীয় ছাত্রশক্তিও এ দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অটোমেশন হলে টেকনিক্যাল জটিলতাগুলো সহজেই সমাধান হবে এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব কমবে। বর্তমান প্রশাসন ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’
জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আবু উবায়দা ওসামা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য স্যারকে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা জানিয়ে আসছি। কিন্তু গত জুলাইয়ের পর থেকে প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এই সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে এবং কৃত্রিম সেশনজট তৈরি হচ্ছে, যার সম্পূর্ণ দায় প্রশাসনের।’
সার্বিক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে লোকবল সংকটের বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে নোট আকারে প্রশাসনের কাছে ফাইল পাঠিয়েছি। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই, উপাচার্য নির্দেশ দিলে বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করা হবে।’
অভিযোগ ও সংকটের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা কর্মচারী সংকট বিরাজ করছে। এতে অফিসটিতে প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তিনজনের কাজ করতে হচ্ছে একজনকে। দপ্তরে অন্তত ১১টি পদ শূন্য থাকলেও তা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
লোকবল সংকটের কারণে সঠিক সময়ে ফলাফল প্রকাশ করতে না পারায় শিক্ষার্থীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত ব্যক্তিরা।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও আজও সেই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউটের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্তত ২২টি ইভিনিং ও উইকেন্ড কোর্সের ফলাফল প্রস্তুত করতে হয় এই দপ্তরকে। লোকবল কমলেও কাজের চাপ বেড়েছে বহুগুণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত লোকবল নেই। পরীক্ষার সময়ে একজনকে অনেকগুলো বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ আটকে থাকার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।’
এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়ার চেয়েও বর্তমানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরকে অটোমেশন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বারবার প্রশাসনকে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা বর্তমান জাতীয় ছাত্রশক্তিও এ দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অটোমেশন হলে টেকনিক্যাল জটিলতাগুলো সহজেই সমাধান হবে এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব কমবে। বর্তমান প্রশাসন ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’
জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আবু উবায়দা ওসামা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য স্যারকে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা জানিয়ে আসছি। কিন্তু গত জুলাইয়ের পর থেকে প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এই সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে এবং কৃত্রিম সেশনজট তৈরি হচ্ছে, যার সম্পূর্ণ দায় প্রশাসনের।’
সার্বিক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে লোকবল সংকটের বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে নোট আকারে প্রশাসনের কাছে ফাইল পাঠিয়েছি। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই, উপাচার্য নির্দেশ দিলে বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করা হবে।’
অভিযোগ ও সংকটের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন