বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত কৈবর্তখালীর সূর্যমুখী সমারোহ

কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত কৈবর্তখালীর সূর্যমুখী সমারোহ
কৈবর্তখালীর সূর্যমুখী সমারোহ। ছবি: বিপ্লবী বার্তা

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের কৈবর্তখালী গ্রাম যেন এখন এক জীবন্ত উৎসবের আঙিনা। প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক মনোমুগ্ধকর ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে পুরো গ্রামটি। একসময় যেখানে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ছিল, সেখানে এখন দিগন্তজোড়া সূর্যমুখীর সমারোহ, যা শুধু কৃষির নতুন সম্ভাবনাই নয়, গ্রামীণ সৌন্দর্যেও এনেছে ভিন্ন মাত্রা।

হলুদ রঙের অপূর্ব সাজে সেজে ওঠা এই সূর্যমুখীর ক্ষেত প্রতিদিনই আকর্ষণ করছে দর্শনার্থীদের। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিকেল হলেই ক্ষেতটি পরিণত হয় ছোটখাটো মিলনমেলায়; পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেকে, তোলেন ছবি, উপভোগ করেন প্রকৃতির নির্মল রূপ।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম খরচ এবং শ্রমে তুলনামূলক বেশি লাভজনক হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে । একসময় ধান ও অন্যান্য ফসলের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলে এখন বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে সূর্যমুখী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ৯৮৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২ থেকে ২.৫ টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

স্থানীয় কৃষক খোকন জানান, ‘এ বছর প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ সহায়তা পেয়েছি। তবে সহজ শর্তে ঋণ পেলে আরও ভালোভাবে চাষ করা যেত।’ 

অন্য কৃষক মোস্তফা হাওলাদার বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছি। এটি লাভজনক ফসল। কৃষি কার্ড ও সরকারি সহায়তা পেলে আরও উৎসাহিত হতাম।’

কৃষক রফিক উদ্দিন বলেন, ‘সূর্যমুখী শুধু ফসল নয়, এটি এখন আমাদের এলাকার সৌন্দর্যের অংশ। ফুল ফুটলে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসে, যা আমাদের জন্য আনন্দের।’

এছাড়া দূর দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও সূর্যমুখীর এমন সৌন্দর্যে মুগ্ধ। কেও পরিবার নিয়ে তো কেও বন্ধুদের সঙ্গে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। 

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, “কৃষকদের বীজ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে সূর্যমুখী চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছি।”

কৈবর্তখালী গ্রামের এই সূর্যমুখী ক্ষেত এখন শুধু কৃষিজমি নয়, বরং কৃষকের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও গ্রামীণ পর্যটনের এক নতুন দিগন্তের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সূর্যমুখী ফুল কৃষি গ্রামীণ সৌন্দর্য

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত কৈবর্তখালীর সূর্যমুখী সমারোহ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের কৈবর্তখালী গ্রাম যেন এখন এক জীবন্ত উৎসবের আঙিনা। প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক মনোমুগ্ধকর ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে পুরো গ্রামটি। একসময় যেখানে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ছিল, সেখানে এখন দিগন্তজোড়া সূর্যমুখীর সমারোহ, যা শুধু কৃষির নতুন সম্ভাবনাই নয়, গ্রামীণ সৌন্দর্যেও এনেছে ভিন্ন মাত্রা।


হলুদ রঙের অপূর্ব সাজে সেজে ওঠা এই সূর্যমুখীর ক্ষেত প্রতিদিনই আকর্ষণ করছে দর্শনার্থীদের। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিকেল হলেই ক্ষেতটি পরিণত হয় ছোটখাটো মিলনমেলায়; পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেকে, তোলেন ছবি, উপভোগ করেন প্রকৃতির নির্মল রূপ।


কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম খরচ এবং শ্রমে তুলনামূলক বেশি লাভজনক হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে । একসময় ধান ও অন্যান্য ফসলের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলে এখন বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে সূর্যমুখী।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ৯৮৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২ থেকে ২.৫ টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।


স্থানীয় কৃষক খোকন জানান, ‘এ বছর প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ সহায়তা পেয়েছি। তবে সহজ শর্তে ঋণ পেলে আরও ভালোভাবে চাষ করা যেত।’ 


অন্য কৃষক মোস্তফা হাওলাদার বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছি। এটি লাভজনক ফসল। কৃষি কার্ড ও সরকারি সহায়তা পেলে আরও উৎসাহিত হতাম।’


কৃষক রফিক উদ্দিন বলেন, ‘সূর্যমুখী শুধু ফসল নয়, এটি এখন আমাদের এলাকার সৌন্দর্যের অংশ। ফুল ফুটলে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসে, যা আমাদের জন্য আনন্দের।’

এছাড়া দূর দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও সূর্যমুখীর এমন সৌন্দর্যে মুগ্ধ। কেও পরিবার নিয়ে তো কেও বন্ধুদের সঙ্গে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। 


পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, “কৃষকদের বীজ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে সূর্যমুখী চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছি।”


কৈবর্তখালী গ্রামের এই সূর্যমুখী ক্ষেত এখন শুধু কৃষিজমি নয়, বরং কৃষকের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও গ্রামীণ পর্যটনের এক নতুন দিগন্তের প্রতীক হয়ে উঠেছে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা