রাজাপুর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আব্দুল খালেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে। সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় খালের ভেতরে পিলার স্থাপন করে এই নির্মাণকাজ চলায় স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালের ভেতরে রড দিয়ে স্থায়ী পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন শ্রমিক সেখানে পরবর্তী ঢালাই কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের মদদে এই কাজ চলায় কেউ সরাসরি বাধা দিতে সাহস পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসীর দাবি, আব্দুল খালেক হাওলাদারের মেয়ে জামাই স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার জাহিদুল ইসলাম এবং বাজার কমিটির কিছু অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এই দখলবাজি চলছে। তবে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন হাওলাদার দখলের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আগে অনেকেই খালের পাড়ে দোকান করেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় খালেকও কাজ করছেন। এটাকে আমি খাল দখল মনে করি না।”
অভিযুক্ত আব্দুল খালেক হাওলাদার খালের জমি ব্যবহারের কথা স্বীকার করে বলেন, “ভবনের কিছু অংশ খালের মধ্যে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে দেখে গেছেন। প্রয়োজনে আমার জামাই বা এমপির সঙ্গে কথা বলা হবে।” খালের জমি সরকারি প্রমাণিত হলে ভেঙে ফেলার আশ্বাস দিলেও, ইউএনও’র তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধের নির্দেশ তিনি কেন মানেননি—সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এভাবে খাল ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হলে পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ফসলি জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন: “খাল দখল করে ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মিত পিলারগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। সরকারি খাল উদ্ধারে কোনো আপস করা হবে না।”
দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই দখলের প্রবণতা পুরো বাজার এলাকার পরিবেশ ও কৃষিব্যবস্থাকে সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজাপুর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আব্দুল খালেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে। সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় খালের ভেতরে পিলার স্থাপন করে এই নির্মাণকাজ চলায় স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালের ভেতরে রড দিয়ে স্থায়ী পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন শ্রমিক সেখানে পরবর্তী ঢালাই কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের মদদে এই কাজ চলায় কেউ সরাসরি বাধা দিতে সাহস পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসীর দাবি, আব্দুল খালেক হাওলাদারের মেয়ে জামাই স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার জাহিদুল ইসলাম এবং বাজার কমিটির কিছু অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এই দখলবাজি চলছে। তবে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন হাওলাদার দখলের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আগে অনেকেই খালের পাড়ে দোকান করেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় খালেকও কাজ করছেন। এটাকে আমি খাল দখল মনে করি না।”
অভিযুক্ত আব্দুল খালেক হাওলাদার খালের জমি ব্যবহারের কথা স্বীকার করে বলেন, “ভবনের কিছু অংশ খালের মধ্যে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে দেখে গেছেন। প্রয়োজনে আমার জামাই বা এমপির সঙ্গে কথা বলা হবে।” খালের জমি সরকারি প্রমাণিত হলে ভেঙে ফেলার আশ্বাস দিলেও, ইউএনও’র তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধের নির্দেশ তিনি কেন মানেননি—সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এভাবে খাল ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হলে পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ফসলি জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন: “খাল দখল করে ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মিত পিলারগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। সরকারি খাল উদ্ধারে কোনো আপস করা হবে না।”
দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই দখলের প্রবণতা পুরো বাজার এলাকার পরিবেশ ও কৃষিব্যবস্থাকে সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন