দিরাইয়ে বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিবাদের জেরে এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আপন চাচাতো ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আনজুর মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি।


শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ধল আশ্রম গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আনহার মিয়ার পরিবারের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে আনজুর মিয়ার সাথে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক টানাপোড়েন চলছিল। শনিবার দুপুরে এই বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা চরম আকার ধারণ করলে ঘাতক আনহার মিয়া উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে আনজুর মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


​রক্তাক্ত অবস্থায় আনজুর মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দিরাই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। ​ঘটনার খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত দিরাই সরকারি হাসপাতালে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


​দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন “সামান্য দাওয়াত দেওয়া-নেওয়া নিয়ে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা খবর পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযুক্ত আনহার মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছে, তবে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। অপরাধীকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”


​এই ঘটনার পর ধল আশ্রম গ্রামসহ পুরো দিরাই উপজেলায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। সামান্য কারণে আপন ভাইয়ের রক্তে হাত রাঙানোর এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।


​পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।