কেরু থেকে উধাও ১২০০ লিটার মদ, জানেন না এমডি-ব্যবস্থাপক
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এন্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এবার কোনো উৎপাদন সাফল্য নয়, বরং লাভজনক ডিস্টিলারি মদ ফ্যাক্টরি থেকে প্রায় ১২০০ লিটার (২শ কেস) মদ উধাও হওয়ার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।


স্থানীয়দের প্রশ্ন এত বিপুল পরিমাণ মদ কীভাবে উধাও হয়? নিয়ন্ত্রিত ও কড়া নিরাপত্তার কারখানা থেকে এই মদ গেল কোথায়?  উধাও? নাকি আড়ালে অন্য কিছু?


লাভের কারখানায় রহস্যের ঘনঘটা

কেরু এন্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি শাখা প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লাভজনক ইউনিট হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি লিটার মদের উৎপাদন, মজুদ ও সরবরাহ থাকে কড়াকড়ি হিসাবের মধ্যে। সেখানে ১২০০ লিটার মদের হদিস না পাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেরু কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ফাইন্যান্স বিভাগের জাকারিয়া হোসেনকে প্রধান করে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে,বদরুল আলম (কমার্শিয়াল বিভাগ), শামীমা আহাম্মেদ (হিসাব বিভাগ), মিনাল কান্তি বিশ্বাস (ডিস্টিলারি কেমিস্ট)।


তদন্ত কমিটির প্রধান জাকারিয়া হোসেন বলেন,আমি তদন্ত কমিটিতে আছি। গতকাল ৪ জানুয়ারি রোববার দুপুর ২টার পর অফিস আওয়ার শেষে চিঠি পেয়েছি। আগামীকাল বা পরশু আমরা তদন্ত শুরু করব।


এ বিষয়ে ডিস্টিলারি শাখার ব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন, 'আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে শুনেছি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তদন্ত করে দেখুক আমাদের কোনো সমস্যা নেই।'


কিন্তু সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন,যে শাখার ব্যবস্থাপক তিনি, সেই শাখা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ উধাও অথচ তিনি কিছুই জানেন না।


কেরু এন্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাব্বিক হাসান বলেন, 'এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। তাই তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 


সচেতনমহল বলছে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি সংবেদনশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কেউ কিছুই জানে না সেটা কি করে সম্ভব।


এদিকে ডিস্টিলারির প্রতিটি ধাপেই রয়েছে হিসাব, রেজিস্টার ও তদারকি। সেখানে ১২০০ লিটার মদ হঠাৎ উধাও হওয়া মানে কেউ না কেউ জানে, কেউ না কেউ জড়িত।