মানবাধিকার কমিশন বাতিলের সুপারিশের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন না করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক ফিরোজ হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন:আবু সাঈদ বিশ্বাস (ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দৈনিক আলোর পরশ)আরাফাত হোসেন (জেলা সমন্বয়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন)সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, শাহজাহান আলী মিটন এবং মানবাধিকার কর্মী হাফিজুর রহমান প্রমুখ।সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করেছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বিশেষ কমিটি সেই অধ্যাদেশগুলোকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে বাতিলের সুপারিশ করেছে, যা অত্যন্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হবে।গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্র ও বিপ্লবের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে আইনে পরিণত করতে হবে।জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও বিশেষ কমিটির সরকারি দলীয় সদস্যরা বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অগ্রাহ্য করে বাতিলের সুপারিশ করেছেন।অধিকার কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে আজ্ঞাবহ করা হয়েছিল, বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই পথকেই প্রশস্ত করছে। বিরোধী দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর অতীতের ন্যায় নিপীড়ন রুখতে এই অধ্যাদেশগুলোর আইনি সুরক্ষা অপরিহার্য।সমাবেশ থেকে বক্তারা সরকারকে অবিলম্বে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বহাল রাখার জোর দাবি জানান।