বিপ্লবী বার্তা

কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের, মোদী কেন চুপ?

কলকাতায় পাকিস্তানের সম্ভাব্য হামলার হুমকি এবং তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার নদীয়ার নাকাশিপাড়ার এক নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন তিনি।সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কেরালায় এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, কোনো ‘দুঃসাহসিকতা’ দেখালে ভারত নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেবে। এর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ হুমকি দিয়ে বলেন, ভারতের যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তান কলকাতায় হামলা চালাবে।পাকিস্তানের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।নাকাশিপাড়ার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন: “পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বলেন কী করে? কেন মোদী বললেন না যে পদক্ষেপ নেবেন? কেন চুপ আপনি? প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জবাব দিন।”তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গ সবসময় কেন্দ্রের পাশে থাকলেও কলকাতার ওপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না। কেন প্রধানমন্ত্রী এই হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী এদিন গত বছরের পহেলগাম হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “কেন বললেন না যে উই উইল টেক স্ট্রং অ্যাকশন? না-কি ভোটের আগে আরও একটা পহেলগামের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে? এই কথাগুলো কারা বলাচ্ছে, তার তদন্ত চাই।”বিজেপির ‘অনুপ্রবেশ’ ও ‘রোহিঙ্গা’ তত্ত্ব নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তুলোধোনা করেন মমতা। বিএসএফ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন উল্লেখ করে তিনি বলেন: “বিএসএফ তো আপনার হাতে। তাহলে অনুপ্রবেশ হলে দায়ী কে? সীমান্ত সামলাতে না পারলে আপনি আগে পদত্যাগ করুন।” “বাংলায় কথা বললেই ঘুষপেটিয়া আর রোহিঙ্গা বলা হচ্ছে! দিল্লিতে বাঙালিরা হোটেল পাচ্ছে না। অথচ এই মানুষের ভোটেই আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন।”সবশেষে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “পাকিস্তান কলকাতাকে আক্রমণ করার কথা বলছে আর প্রধানমন্ত্রী মুখে প্লাস্টার লাগিয়ে বসে আছেন। আপনার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।”আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজ্য রক্ষা নিয়ে মমতার এই ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের, মোদী কেন চুপ?