ইসলামপুর থানার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ
জামালপুরের ইসলামপুর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ ও তদন্তের নামে ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী এক নারী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার ধনতলা গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ মাহমুদা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একই এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে মোঃ মজি ইসলাম (কালু সেক) ও তার সহযোগীদের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।ঘটনার পর মোজি ইসলাম (কালু সেক) বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাছিরুজ্জামান বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান। পরে ভুক্তভোগী মাহমুদা চিকিৎসা শেষে থানায় যোগাযোগ করলে অভিযোগ খারিজ করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।পরবর্তীতে মাহমুদা নিজে বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে সেটির তদন্তভার পান উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল। তিনিও তদন্তের নামে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে উভয় পক্ষের অভিযোগ খারিজ করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন তিনি।ভুক্তভোগীর দাবি, “আমি ন্যায়বিচারের আশায় থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু উল্টো আমাকে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোনো বিচারই পাইনি।”এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।অভিযোগের বিষয়ে এসআই সোহেল বলেন, বাদী মাহমুদার সাথে তদন্তে যাওয়ার পর দেখা হয়েছে। টাকা নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করেন। এএসআই নাছিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে জামালপুরের পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জামালপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (অপরাধ শাখা) কামরুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।এসপি স্যার মিটিংয়ে আছে।স্যার আসা মাত্রই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।