বিপ্লবী বার্তা

কৃষক বাঁচাতে খাল খননের বিকল্প নেই : পানিসম্পদ মন্ত্রী

সারাদেশে সেচব্যবস্থার ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের আমলে পুরোনো খালগুলো লিজ দিয়ে বা আবাদের সুযোগ দিয়ে দখল করা হয়েছে। এসব খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে এক খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭-৮০ সালের খাল খনন বিপ্লবের কথা স্মরণ করে বলেন, “জিয়াউর রহমান খাল কেটে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করেছিলেন। তার সেই অসমাপ্ত কাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমাপ্ত হবে। কারণ তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন, বাংলাদেশকে রক্ষা এবং কৃষককে বাঁচাতে হলে খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের বিকল্প নেই।”শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, “কৃষিই দেশের অর্থনীতির চাবিকাঠি। সরকার চায় কৃষকরা যেন ফসল উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন।”মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। যেখানেই খাল খনন করা হবে, তার পাশে বৃক্ষরোপণ, মৎস্য চাষ এবং হাঁস চাষের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া কেবল ড্রেজার নির্ভর না হয়ে স্থানীয় নারী-পুরুষদের শ্রমিক হিসেবে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ইছেরদাড়ী মোড় থেকে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। খালের তলদেশের গড় প্রশস্ততা ৭ মিটার এবং গভীরতা ১.৫ মিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি উপকৃত হবেন ৫ হাজার ২০০ মানুষ। মন্ত্রী বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত খনন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।খাল খননে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “জলাশয় পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখব। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।”উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষক বাঁচাতে খাল খননের বিকল্প নেই : পানিসম্পদ মন্ত্রী