জান্নাতে যাওয়ার পরও কি মানুষের কোনো বিষয়ে আফসোস থাকবে?
জান্নাত হলো পরম সুখের স্থান, যেখানে কোনো দুঃখ, বেদনা বা মানসিক কষ্ট থাকবে না। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, জান্নাতে যারা তুলনামূলক নিচু স্তরের জান্নাত পাবেন, তারা বড় জান্নাত লাভকারীদের দেখে আক্ষেপ বা আফসোস করবেন। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই ধারণাটি সঠিক নয়।জান্নাতে কষ্টের স্থান নেই। জান্নাতবাসীদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:"এখানে আমাদেরকে কোনো কষ্ট স্পর্শ করবে না এবং কোনো ক্লান্তিও দেখা দেবে না।"— (সুরা ফাতির, আয়াত: ৩৫)যেহেতু আফসোস বা আক্ষেপ এক ধরনের মানসিক কষ্ট, সেহেতু জান্নাতে এমন কোনো অনুভূতি থাকবে না যা জান্নাতিদের মনে বিন্দুমাত্র কষ্টের উদ্রেক করে। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের মনকে এমনভাবে তুষ্ট করে দেবেন যে, তারা নিজ নিজ অবস্থানেই পরম তৃপ্ত থাকবেন।তবে একটি হাদিসে জান্নাতিদের এক বিশেষ ধরনের আফসোসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:"জান্নাতবাসী কেবলমাত্র ওই সময়ের ব্যাপারে আফসোস করবে, যে সময়টি দুনিয়াতে আল্লাহর স্মরণ (জিকির) ছাড়া অতিবাহিত হয়েছে।"— (আল-মুজামুল কাবির লিত তবারানি, ১৮২)মুফাসসির ও হাদিস বিশারদদের মতে, জান্নাতিদের এই আফসোস দুনিয়ার আক্ষেপের মতো যন্ত্রণাদায়ক হবে না। এটি হবে জান্নাতে নিজের মর্যাদা আরও বৃদ্ধির সুযোগ হারানোর একটি উপলব্ধি। তারা যখন আল্লাহর জিকিরের বিনিময়ে জান্নাতে বিশাল নেয়ামত ও উচ্চ মর্যাদা দেখতে পাবেন, তখন তারা ভাববেন—দুনিয়ার যে সময়টুকু তারা হেলায় কাটিয়েছেন, সেখানেও যদি আল্লাহর জিকির করতেন, তবে আজ মর্যাদা আরও বহুগুণ বেশি হতো।জান্নাতে ছোট-বড় জান্নাত পাওয়া নিয়ে কোনো হীনম্মন্যতা বা মানসিক কষ্ট থাকবে না। হাদিসে বর্ণিত ‘আফসোস’ মূলত ইবাদতের গুরুত্ব বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে মুমিন বান্দারা দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর স্মরণে কাজে লাগাতে সচেষ্ট হন।