বিপ্লবী বার্তা

মোবাইলে মিলল গাবতলীতে লতিফ হত্যার রহস্য

রাতের নিস্তব্ধতা চিরে যখন ভোরের আলো ফুটছিল, তখনো কেউ জানত না বগুড়ার গাবতলীতে সেই নির্জন শ্যালো মেশিনঘরটি একটি নৃশংস খুনের সাক্ষী হয়ে আছে। ফসলের মাঠে পানি পৌঁছে দিয়ে যিনি কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতেন, সেই সেচ মালিক আব্দুল লতিফ আকন্দকে (৬৫) প্রাণ দিতে হলো নিছক ক্ষমতার লোভে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ঘাতকের; একটি ‘হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন’ হয়ে উঠেছে খুনের অকাট্য প্রমাণ, যা টেনে এনেছে প্রতারণার কালো পর্দার পেছনের আসল চেহারাকে।বগুড়ার গাবতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, সেচ স্কিমের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে এই হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পার্থ সিংহকে (২৮) জামালপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গত ২৮ মার্চ রাতে প্রতিদিনের মতোই নিজ বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নিজের শ্যালো মেশিনঘরে ঘুমাতে গিয়েছিলেন লতিফ আকন্দ। কিন্তু পরদিন সকালে সেখানে তার ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠে স্থানীয়রা। লতিফ আকন্দের ছেলে শহীদ মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।হত্যাকাণ্ডটি নিখুঁতভাবে ঘটানোর চেষ্টা করলেও প্রকৃতি ঘাতককে ছেড়ে দেয়নি। পালিয়ে যাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করে নিজের মোবাইল ফোনটি হারিয়ে ফেলেন পার্থ সিংহ। পরে পাঁচমাইল এলাকায় এক কিশোর সেই ফোনটি কুড়িয়ে পায়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং ওই ফোনের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। নিখুঁত গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ে পার্থের অবস্থান। অবশেষে ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় জামালপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সিংহ স্বীকার করেছেন যে, লতিফ আকন্দকে সরিয়ে সেচ স্কিমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লালসা থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।গাবতলী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন জানান সেচ স্কিমের দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।গ্রামের মেঠোপথের সেই শ্যালো মেশিনের শব্দে এখন আর কেবল পানি ওঠার আওয়াজ নয়, মিশে আছে এক বৃদ্ধের আর্তনাদ। লতিফ আকন্দের পরিবার এখন শুধু ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায়।

মোবাইলে মিলল গাবতলীতে লতিফ হত্যার রহস্য