মাদক নির্মূলে চলতি বছর ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেবে সরকার। তবে একসঙ্গে এতসংখ্যক সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর্যাপ্ত অবকাঠামো পুলিশের নেই। এ জন্য নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। মাদক নির্মূল করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে এসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা প্রভাবশালীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন,গত দুই মাসে মাদকের কারণে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছি। আপনারা আর কী চান? আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপর আপনারা পরিষ্কার হবেন।মাদক ব্যবসা ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে পুলিশ সদস্যদের দূরে থাকার আহ্বান জানান ।
তিনি বলেন, বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার থাকলেও সেখানকার অধিকাংশ মানুষই ভালো। অল্প কিছু মানুষ মাদক ব্যবসা ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কিছু ‘হোয়াইট-কলার’ অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতা ব্যবহার করে দরিদ্র মানুষকে মাদকের সঙ্গে যুক্ত করছে। প্রথমে বিনা মূল্যে মাদক খাইয়ে তাদের আসক্ত করা হয়। পরে তাদের মাদক পরিবহন ও ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়। এভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে।
তিনি আরোও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট পদ্ধতি নেই। সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কে সরকারে আসবে, তা নিয়ে প্রশাসন কিংবা কমিউনিটি পুলিশের ভাবার বিষয় নয়। পুলিশের দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো সব তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান বললে সেই পরিকল্পনার মধ্যেও ষড়যন্ত্র খোঁজার প্রবণতা রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ ও চাকরি নিয়ে ছড়ানো গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করলে চাকরি হারানোর ভয় নেই। তবে কেউ মাদক ব্যবসা বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে মাদক নির্মূলের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিজেদের আগে অপরাধমুক্ত হতে হবে।
আইজিপি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় জাতি। দেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে শুধু শাসিত হওয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ জামিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
মাদক নির্মূলে চলতি বছর ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেবে সরকার। তবে একসঙ্গে এতসংখ্যক সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর্যাপ্ত অবকাঠামো পুলিশের নেই। এ জন্য নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। মাদক নির্মূল করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে এসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা প্রভাবশালীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন,গত দুই মাসে মাদকের কারণে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছি। আপনারা আর কী চান? আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপর আপনারা পরিষ্কার হবেন।মাদক ব্যবসা ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে পুলিশ সদস্যদের দূরে থাকার আহ্বান জানান ।
তিনি বলেন, বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার থাকলেও সেখানকার অধিকাংশ মানুষই ভালো। অল্প কিছু মানুষ মাদক ব্যবসা ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কিছু ‘হোয়াইট-কলার’ অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতা ব্যবহার করে দরিদ্র মানুষকে মাদকের সঙ্গে যুক্ত করছে। প্রথমে বিনা মূল্যে মাদক খাইয়ে তাদের আসক্ত করা হয়। পরে তাদের মাদক পরিবহন ও ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়। এভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে।
তিনি আরোও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট পদ্ধতি নেই। সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কে সরকারে আসবে, তা নিয়ে প্রশাসন কিংবা কমিউনিটি পুলিশের ভাবার বিষয় নয়। পুলিশের দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো সব তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান বললে সেই পরিকল্পনার মধ্যেও ষড়যন্ত্র খোঁজার প্রবণতা রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ ও চাকরি নিয়ে ছড়ানো গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করলে চাকরি হারানোর ভয় নেই। তবে কেউ মাদক ব্যবসা বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে মাদক নির্মূলের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিজেদের আগে অপরাধমুক্ত হতে হবে।
আইজিপি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় জাতি। দেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে শুধু শাসিত হওয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ জামিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন।

আপনার মতামত লিখুন