জন্ম ও শেকড় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে, কিন্তু জীবনের শেষবেলায় ৮৫ বছর বয়সী কোহিনুর বেগমের ঠিকানা এখন নওগাঁর নিয়ামতপুর। বয়সের ভার, চরম দারিদ্র্য আর রোগশোকের সঙ্গে লড়াই করতে করতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধা।
বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বর্তমান ঠিকানা-নওগাঁর নিয়ামতপর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের উপর কুড়া শালবাড়ি গ্রামে ।গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের মেয়ে কোহিনুরের বিয়ে হয়েছিল একই উপজেলার বিয়ানা গ্রামে। স্বামী হারানোর পর একমাত্র মেয়ে সালমার সংসারে আশ্রয় হয় তার। একসময় ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোমতে দিন চললেও বার্ধক্যে সে পথও আজ বন্ধ। ৫ সদস্যের এই সংসারে জামাই তৈমুর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও কর্মক্ষমহীন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ১৮ বছর বয়সী নাতি কৃষিশ্রমিক হিসেবে যা আয় করেন, তা দিয়ে ডাল ভাত জুটেতেই নুন আনতে পান্তা ফুরায় দশা। বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য বহু দপ্তরে ঘুরে দুই মাস আগে মিলেছে , পাননি কোনো সরকারি ত্রাণ।
পারিবারিক অসচ্ছলতার চিত্র আরও করুণ। গবাদিপশুসহ পুরো পরিবার একটিমাত্র ঘরে গাদাগাদি করে থাকে। কোহিনুর বেগম থাকেন ঘরের বাইরে এক পলকা জীর্ণছাউনির নিচে ভাঙা বিছানায়। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে, শীত-বর্ষায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। তীব্র হাঁটু ও কোমর ব্যথায় শয্যাশায়ী হলেও ওষুধ বা চিকিৎসা দূরের কথা, জোটে না পুষ্টিকর খাবার।
প্রতিবেশী শাকিম বলেন, পরিবারটি বড় অসহায়। ঋণ ও অভাবের তাড়নায় ঢাকায় থাকার সময় নিজ দায়িত্বে বৃদ্ধার দেখাশোনা করেছি। এখন সরকারি ও বিত্তবানদের জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই ও চিকিৎসা প্রয়োজন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ে সালমা বলেন, মায়ের খাবার, ওষুধ ও থাকার সুব্যবস্থা করতে না পেরে তারা চরম বিপদের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তিনি তার মায়ের একটি নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা ও সুচিকিৎসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
অসহায় বৃদ্ধা কোহিনুর বেগম ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বা সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে -০১৩৩৩৭৯১৮৬৩

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জন্ম ও শেকড় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে, কিন্তু জীবনের শেষবেলায় ৮৫ বছর বয়সী কোহিনুর বেগমের ঠিকানা এখন নওগাঁর নিয়ামতপুর। বয়সের ভার, চরম দারিদ্র্য আর রোগশোকের সঙ্গে লড়াই করতে করতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধা।
বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বর্তমান ঠিকানা-নওগাঁর নিয়ামতপর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের উপর কুড়া শালবাড়ি গ্রামে ।গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের মেয়ে কোহিনুরের বিয়ে হয়েছিল একই উপজেলার বিয়ানা গ্রামে। স্বামী হারানোর পর একমাত্র মেয়ে সালমার সংসারে আশ্রয় হয় তার। একসময় ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোমতে দিন চললেও বার্ধক্যে সে পথও আজ বন্ধ। ৫ সদস্যের এই সংসারে জামাই তৈমুর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও কর্মক্ষমহীন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ১৮ বছর বয়সী নাতি কৃষিশ্রমিক হিসেবে যা আয় করেন, তা দিয়ে ডাল ভাত জুটেতেই নুন আনতে পান্তা ফুরায় দশা। বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য বহু দপ্তরে ঘুরে দুই মাস আগে মিলেছে , পাননি কোনো সরকারি ত্রাণ।
পারিবারিক অসচ্ছলতার চিত্র আরও করুণ। গবাদিপশুসহ পুরো পরিবার একটিমাত্র ঘরে গাদাগাদি করে থাকে। কোহিনুর বেগম থাকেন ঘরের বাইরে এক পলকা জীর্ণছাউনির নিচে ভাঙা বিছানায়। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে, শীত-বর্ষায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। তীব্র হাঁটু ও কোমর ব্যথায় শয্যাশায়ী হলেও ওষুধ বা চিকিৎসা দূরের কথা, জোটে না পুষ্টিকর খাবার।
প্রতিবেশী শাকিম বলেন, পরিবারটি বড় অসহায়। ঋণ ও অভাবের তাড়নায় ঢাকায় থাকার সময় নিজ দায়িত্বে বৃদ্ধার দেখাশোনা করেছি। এখন সরকারি ও বিত্তবানদের জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই ও চিকিৎসা প্রয়োজন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ে সালমা বলেন, মায়ের খাবার, ওষুধ ও থাকার সুব্যবস্থা করতে না পেরে তারা চরম বিপদের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তিনি তার মায়ের একটি নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা ও সুচিকিৎসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
অসহায় বৃদ্ধা কোহিনুর বেগম ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বা সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে -০১৩৩৩৭৯১৮৬৩

আপনার মতামত লিখুন