জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বরাবরই দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এই ক্যাম্পাসের আড্ডা, গান আর শিল্পের চর্চায় এবার যোগ হলো নতুন এক সুর। বইয়ের পাতার ঘ্রাণ আর চায়ের পেয়ালার উষ্ণতায় শিক্ষার্থীদের জন্য গড়ে উঠেছে নতুন বুক ক্যাফে ‘অর্কেস্ট্রা’। ক্যাম্পাসের শহীদ সালাম-বরকত হল সংলগ্ন রাস্তার পাশেই এর অবস্থান।
গ্রিক শব্দ 'অর্কেস্ট্রা'র বাংলা অর্থ সমস্বর বা ঐকতান। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বা বাদকেরা মিলে যখন একসাথে একটি নির্দিষ্ট সুর তৈরি করে, তখন তাকে অর্কেস্ট্রা বলে। ক্যাফেটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে এমনই এক দারুণ দর্শন। ক্যাফের উদ্যোক্তা অজান্তা ইসলাম আশা বলেন, “আমার এখানে বিভিন্ন লেখকের অনেক বই আছে, কিন্তু সবার সুর একটাই- আর তা হলো বই পড়া। সেই ঐকতানের ধারণা থেকেই ক্যাফেটির এই নাম দেওয়া।”
শহীদ সালাম-বরকত হলের পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই ক্যাফেটির সুন্দর, মনোরম ও স্নিগ্ধ পরিবেশ যে কারও নজর কাড়বে। তাকে তাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন লেখকের কালজয়ী সব বই। পাঠকদের বসার জন্য রয়েছে কাস্টমাইজড হ্যান্ড ক্রাফটেড সি-থ্রু কাঠের টেবিল ও মোড়া। শুধু তাই নয়, ইট-পাথরের মাঝে প্রশান্তি আনতে বিভিন্ন ছোটবড় গাছের চারা ও ডাল দিয়ে ক্যাফের ভেতরে চমৎকার এক প্রাকৃতিক আবহ তৈরি করা হয়েছে, যা একাধারে আধুনিকতা ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মিশেল।
বইয়ের পাশাপাশি ‘অর্কেস্ট্রা’র মেন্যুতেও রয়েছে ভিন্নতা। সাধারণ রং চা, দুধ চা বা কফির পাশাপাশি এখানে মিলছে বাহারি সব ফুলের চা। রোজেলা চা, অপরাজিতা চা, গোলাপ চা এবং জবা চায়ের মতো স্পেশাল আইটেমগুলো ইতোমধ্যেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের পকেটের কথা মাথায় রেখে ক্যাফের সকল চা ও কফির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
মাত্র কয়েকদিনের পথচলায় অর্কেস্ট্রা ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের নজর কেড়েছে। দোকান যতক্ষণ খোলা থাকে, যে কেউ চাইলে এখানে বসে বিনামূল্যে যেকোনো বই পড়তে পারেন। আবার চাইলে সূলভ মূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন নিজের পছন্দের বইটিও। ব্যতিক্রম ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিনই খোলা থাকে ক্যাফেটি।
ক্যাফেতে আসা এক শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার অনেক জায়গা থাকলেও, শান্ত পরিবেশে বসে বই পড়ার মতো এমন নান্দনিক ক্যাফে এটাই প্রথম। ২০-৩০ টাকায় চমৎকার সব ফুলের চা আর সাথে প্রিয় লেখকদের বই, ক্লাসের ফাঁকে অবসর কাটানোর জন্য এটি দারুণ এক জায়গা।”
আরেক শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ বলেন, “কাঠের টেবিল-মোড়া আর চারপাশের গাছপালার ডেকোরেশনটা খুব রিলাক্সিং। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এদের দাম, সবকিছুই বেশ অল্প টাকার মধ্যে, যা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একদম পারফেক্ট। চাইলে এক কাপ কফি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়ে কাটিয়ে দেওয়া যায়।”
উদ্যোক্তা অজান্তা ইসলাম আশা বর্তমানে ধামরাই সরকারি কলেজে বাংলায় স্নাতকোত্তর করছেন। ২০১৮-১৯ সালের দিকে ‘হিমু পরিবহন’-এর পাঠচক্রের সাথে যুক্ত থাকার সময় থেকেই এমন একটি বুক ক্যাফের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তার সেই স্বপ্নের ক্যাফে আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, আগের সেই পাঠচক্রের আদলে এই ক্যাফেতেও নিয়মিত বুক ক্লাব রিডিং সেশন এবং লেখক আড্ডার মতো আয়োজন করার ইচ্ছে রয়েছে তার। জাবির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘অর্কেস্ট্রা’ বইপ্রেমীদের মাঝে নতুন উন্মাদনা তৈরি করবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বরাবরই দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এই ক্যাম্পাসের আড্ডা, গান আর শিল্পের চর্চায় এবার যোগ হলো নতুন এক সুর। বইয়ের পাতার ঘ্রাণ আর চায়ের পেয়ালার উষ্ণতায় শিক্ষার্থীদের জন্য গড়ে উঠেছে নতুন বুক ক্যাফে ‘অর্কেস্ট্রা’। ক্যাম্পাসের শহীদ সালাম-বরকত হল সংলগ্ন রাস্তার পাশেই এর অবস্থান।
গ্রিক শব্দ 'অর্কেস্ট্রা'র বাংলা অর্থ সমস্বর বা ঐকতান। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বা বাদকেরা মিলে যখন একসাথে একটি নির্দিষ্ট সুর তৈরি করে, তখন তাকে অর্কেস্ট্রা বলে। ক্যাফেটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে এমনই এক দারুণ দর্শন। ক্যাফের উদ্যোক্তা অজান্তা ইসলাম আশা বলেন, “আমার এখানে বিভিন্ন লেখকের অনেক বই আছে, কিন্তু সবার সুর একটাই- আর তা হলো বই পড়া। সেই ঐকতানের ধারণা থেকেই ক্যাফেটির এই নাম দেওয়া।”
শহীদ সালাম-বরকত হলের পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই ক্যাফেটির সুন্দর, মনোরম ও স্নিগ্ধ পরিবেশ যে কারও নজর কাড়বে। তাকে তাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন লেখকের কালজয়ী সব বই। পাঠকদের বসার জন্য রয়েছে কাস্টমাইজড হ্যান্ড ক্রাফটেড সি-থ্রু কাঠের টেবিল ও মোড়া। শুধু তাই নয়, ইট-পাথরের মাঝে প্রশান্তি আনতে বিভিন্ন ছোটবড় গাছের চারা ও ডাল দিয়ে ক্যাফের ভেতরে চমৎকার এক প্রাকৃতিক আবহ তৈরি করা হয়েছে, যা একাধারে আধুনিকতা ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মিশেল।
বইয়ের পাশাপাশি ‘অর্কেস্ট্রা’র মেন্যুতেও রয়েছে ভিন্নতা। সাধারণ রং চা, দুধ চা বা কফির পাশাপাশি এখানে মিলছে বাহারি সব ফুলের চা। রোজেলা চা, অপরাজিতা চা, গোলাপ চা এবং জবা চায়ের মতো স্পেশাল আইটেমগুলো ইতোমধ্যেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের পকেটের কথা মাথায় রেখে ক্যাফের সকল চা ও কফির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
মাত্র কয়েকদিনের পথচলায় অর্কেস্ট্রা ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের নজর কেড়েছে। দোকান যতক্ষণ খোলা থাকে, যে কেউ চাইলে এখানে বসে বিনামূল্যে যেকোনো বই পড়তে পারেন। আবার চাইলে সূলভ মূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন নিজের পছন্দের বইটিও। ব্যতিক্রম ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিনই খোলা থাকে ক্যাফেটি।
ক্যাফেতে আসা এক শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার অনেক জায়গা থাকলেও, শান্ত পরিবেশে বসে বই পড়ার মতো এমন নান্দনিক ক্যাফে এটাই প্রথম। ২০-৩০ টাকায় চমৎকার সব ফুলের চা আর সাথে প্রিয় লেখকদের বই, ক্লাসের ফাঁকে অবসর কাটানোর জন্য এটি দারুণ এক জায়গা।”
আরেক শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ বলেন, “কাঠের টেবিল-মোড়া আর চারপাশের গাছপালার ডেকোরেশনটা খুব রিলাক্সিং। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এদের দাম, সবকিছুই বেশ অল্প টাকার মধ্যে, যা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একদম পারফেক্ট। চাইলে এক কাপ কফি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়ে কাটিয়ে দেওয়া যায়।”
উদ্যোক্তা অজান্তা ইসলাম আশা বর্তমানে ধামরাই সরকারি কলেজে বাংলায় স্নাতকোত্তর করছেন। ২০১৮-১৯ সালের দিকে ‘হিমু পরিবহন’-এর পাঠচক্রের সাথে যুক্ত থাকার সময় থেকেই এমন একটি বুক ক্যাফের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তার সেই স্বপ্নের ক্যাফে আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, আগের সেই পাঠচক্রের আদলে এই ক্যাফেতেও নিয়মিত বুক ক্লাব রিডিং সেশন এবং লেখক আড্ডার মতো আয়োজন করার ইচ্ছে রয়েছে তার। জাবির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘অর্কেস্ট্রা’ বইপ্রেমীদের মাঝে নতুন উন্মাদনা তৈরি করবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

আপনার মতামত লিখুন