বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

টেন্ডার ছাড়াই মাঠ সংস্কারের দায়িত্বে লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদার

টেন্ডার ছাড়াই মাঠ সংস্কারের দায়িত্বে লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের খেলার মাঠের সংস্কারকার্য চলমান। ছবি: নাফিজ আল জাকারিয়া

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়া হয়েছে এক লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারকে। সংস্কারের সুবিধার্থে মাঠের একপাশে রবীন্দ্র চত্বর ঘেঁষে থাকা দুটি কৃষ্ণচূড়া গাছও কেটে ফেলা হয়েছে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তর সূত্রে জানা যায়, হলের অসমাপ্ত এই খেলার মাঠ সংস্কারের বাজেট ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৫৭ টাকা। তবে কাজের টেন্ডার ও ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তরের বক্তব্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।

​কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ​“প্রকল্প অফিস এলটিএম বা সীমিত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করেছে। হারুন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। হল প্রশাসন শুধু কাজটি তদারকি করে বুঝে নেবে।”

​তবে প্রাধ্যক্ষের এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তরের উপপরিচালক ফাহমিদা মাছউদ। তিনি বলেন, ​“টেন্ডার করা বা ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া প্রকল্প দপ্তরের কাজ নয়; এটি সম্পূর্ণ হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। টেন্ডার ছাড়া এত টাকার কাজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হল কর্তৃপক্ষই টেন্ডার করবে এবং তাদের মাধ্যমেই বিল প্রসেস হবে।”

​প্রাধ্যক্ষ এবং প্রকল্প দপ্তরের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই মাঠে কাজ করা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে দরপত্র না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রভোস্ট অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম ‘হারুন এন্টারপ্রাইজ’-এর কথা বললেও বাস্তবে কাজ করছেন আবুল হোসেন নামের এক ঠিকাদার, যার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘রুবেল এন্টারপ্রাইজ’। সরকারি কাজ করার মতো কোনো বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স তার নেই বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।

​কোনো টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, ​“না, কোনো টেন্ডার হয় নাই। আমি সরাসরি স্যারের (প্রভোস্ট) কাছ থেকেই কাজ নিছি।”

​লাইসেন্স না থাকার পরও কীভাবে কাজ করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ​“যাদের অরিজিনাল লাইসেন্স আছে, তাদের সরকারি কাগজপত্র জমা দিয়ে কাজ আনতে হয়। আমাদের তো লাইসেন্স নাই, আমরা তাদের জায়গা থেকে কাজটা নিই।”

​কাগজে-কলমে অন্য কোনো লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এই কাজের বিল তোলা হবে বলেও তিনি জানান।

​এদিকে দরপত্রবিহীন এই কাজের সুবিধার্থে মাঠের দুটি কৃষ্ণচূড়া গাছ কেটে ফেলায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রভোস্ট একে হল সংসদের তদারকিতে ‘মাঠের শেপ ঠিক করার প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করলেও শিক্ষার্থীরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে ক্যাম্পাসের পরিবেশের ক্ষতি করা হয়েছে। নিয়মবহির্ভূত এই কাজের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

​এ বিষয়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কাজী মেহেরাব তূর্য বলেন, ​“স্বচ্ছতা ও টেন্ডার ছাড়া কাজ দেওয়ায় আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত মাঠ সংস্কার প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জরুরি কাজের নামে এমন চর্চা দুর্নীতির পাহাড় গড়বে। অনিয়মের কারণে এখন কাজ বন্ধ হলে এর দায়ভার প্রাধ্যক্ষকেই নিতে হবে।

জাবি প্রভোস্ট

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


টেন্ডার ছাড়াই মাঠ সংস্কারের দায়িত্বে লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়া হয়েছে এক লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারকে। সংস্কারের সুবিধার্থে মাঠের একপাশে রবীন্দ্র চত্বর ঘেঁষে থাকা দুটি কৃষ্ণচূড়া গাছও কেটে ফেলা হয়েছে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তর সূত্রে জানা যায়, হলের অসমাপ্ত এই খেলার মাঠ সংস্কারের বাজেট ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৫৭ টাকা। তবে কাজের টেন্ডার ও ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তরের বক্তব্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।

​কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ​“প্রকল্প অফিস এলটিএম বা সীমিত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করেছে। হারুন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। হল প্রশাসন শুধু কাজটি তদারকি করে বুঝে নেবে।”

​তবে প্রাধ্যক্ষের এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তরের উপপরিচালক ফাহমিদা মাছউদ। তিনি বলেন, ​“টেন্ডার করা বা ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া প্রকল্প দপ্তরের কাজ নয়; এটি সম্পূর্ণ হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। টেন্ডার ছাড়া এত টাকার কাজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হল কর্তৃপক্ষই টেন্ডার করবে এবং তাদের মাধ্যমেই বিল প্রসেস হবে।”

​প্রাধ্যক্ষ এবং প্রকল্প দপ্তরের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই মাঠে কাজ করা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে দরপত্র না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রভোস্ট অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম ‘হারুন এন্টারপ্রাইজ’-এর কথা বললেও বাস্তবে কাজ করছেন আবুল হোসেন নামের এক ঠিকাদার, যার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘রুবেল এন্টারপ্রাইজ’। সরকারি কাজ করার মতো কোনো বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স তার নেই বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।

​কোনো টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, ​“না, কোনো টেন্ডার হয় নাই। আমি সরাসরি স্যারের (প্রভোস্ট) কাছ থেকেই কাজ নিছি।”

​লাইসেন্স না থাকার পরও কীভাবে কাজ করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ​“যাদের অরিজিনাল লাইসেন্স আছে, তাদের সরকারি কাগজপত্র জমা দিয়ে কাজ আনতে হয়। আমাদের তো লাইসেন্স নাই, আমরা তাদের জায়গা থেকে কাজটা নিই।”

​কাগজে-কলমে অন্য কোনো লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এই কাজের বিল তোলা হবে বলেও তিনি জানান।

​এদিকে দরপত্রবিহীন এই কাজের সুবিধার্থে মাঠের দুটি কৃষ্ণচূড়া গাছ কেটে ফেলায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রভোস্ট একে হল সংসদের তদারকিতে ‘মাঠের শেপ ঠিক করার প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করলেও শিক্ষার্থীরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে ক্যাম্পাসের পরিবেশের ক্ষতি করা হয়েছে। নিয়মবহির্ভূত এই কাজের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

​এ বিষয়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কাজী মেহেরাব তূর্য বলেন, ​“স্বচ্ছতা ও টেন্ডার ছাড়া কাজ দেওয়ায় আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত মাঠ সংস্কার প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জরুরি কাজের নামে এমন চর্চা দুর্নীতির পাহাড় গড়বে। অনিয়মের কারণে এখন কাজ বন্ধ হলে এর দায়ভার প্রাধ্যক্ষকেই নিতে হবে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা