বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রে ২১ দিনে সাড়ে ১৯ হাজার ওষুধ গায়েব!

জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রে ২১ দিনে সাড়ে ১৯ হাজার ওষুধ গায়েব!
ছবি: বিপ্লবী বার্তা

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে মাত্র ২১ দিনে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধ গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে সাধারণ ওষুধ না পাওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এসব তথ্য সামনে আনেন জাকসু নেতারা।

​অভিযানে গায়েব হওয়া ওষুধের যে তালিকা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে অ্যালাট্রল ৪ হাজার ৬৪৫ পিস, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৯১২ পিস, সিপ্রোসিন ৪২০ পিস, প্যারাসিটামল ৫ হাজার পিস, টিমোনিয়াম ৭০০ পিস, ফ্যামোটিডিন ২ হাজার ৫০০ পিস, অ্যান্টানিল ২০০ পিস, ন্যাপ্রো ৯৯০ পিস এবং ডমপেরিডোন ৪ হাজার ২০০ পিস।

​অভিযান শেষে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পাদক হুসনি মোবারক বলেন, 'আমরা কিছুদিন যাবৎ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাচ্ছিলাম যে চিকিৎসাকেন্দ্রে কিছু বেসিক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। গত মাসের ৩০ তারিখে প্রায় ২ লাখ টাকার ওষুধ চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রদান করা হয়েছিল, যা এক মাস যাওয়ার কথা। কিন্তু ১৫ দিন যেতে না যেতেই ওষুধের জোগান ফুরিয়ে যাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে খটকা লাগে। তাই পূর্বঘোষণা ছাড়াই আজ আমরা তাৎক্ষণিক অভিযানে আসি। এখানে এসে দেখতে পাই, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে ব্যথার ওষুধসহ প্রত্যেকটি ওষুধেই বিশাল অঙ্কের গরমিল রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, জেনেশুনেই এই কারচুপি করা হয়েছে। গত ২০ দিনে প্রায় ৭৩ হাজার ১১০ টাকা সমমূল্যের সাড়ে ১৯ হাজারের বেশি ওষুধ মিসিং পেয়েছি। স্টোরকিপারকে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানাব। আমরা পূর্বের মাসগুলোর হিসাবও যাচাই-বাছাই করব। আশা করি, প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।'

​তবে অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সুস্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামাল বলেন, 'এই ২০-২১ দিনের মধ্যে এতগুলো ওষুধ গায়েব হওয়ার বিষয়ে আমি বলব, অবশ্যই আমার অবর্তমানে এটা হয়েছে। কিন্তু আমি তো সাধারণত কাউকে চাবি দিই না। কীভাবে এত ওষুধ গায়েব হতে পারে, তা বুঝতে পারছি না।'

​জাবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, 'ওষুধ কমে গেলে আমি প্রতিদিন চেক করি। ফার্মেসিতে গিয়ে ইনডেন্ট দেখি, যখন দেখি ঘরে ‘নিল’ (শূন্য) লেখা, তখন স্টোরকিপারকে জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন, যে পরিমাণ সাপ্লাই দেওয়া হয়েছিল তা শেষ হয়ে গেছে। তার সব স্টক লেজার মেনটেইন করা উচিত। চাবি যেহেতু তার কাছেই থাকে, তাই গরমিলটা কোথায় হলো, সেই জবাব তাকেই (নুর-এ-কামাল) দিতে হবে।'

​এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম বলেন, '২১ দিনে যদি ৭৬ হাজার টাকার ওষুধ গায়েব হয়ে থাকে, তবে এটি বড় ঘটনা। আমরা এক বছর ধরে যে ওষুধ দিয়েছি, সেটার কোনো অডিট করা হয়নি। আমরা প্রতিদিন একজন শিক্ষার্থীর কয়টি ওষুধ লাগতে পারে, তার একটি হিসাব করে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে এখানে সমস্যা আছে, তাই সব কাজ বাদ দিয়ে আজ এসেছি। আমরা চাই পেছনের ব্যাকলগসহ ক্যালকুলেশন করে এক বছর বা তারও পেছনের ইনভেস্টিগেশন করা হোক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, 'দুই দিন পরপরই চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ওষুধের চাহিদা দেওয়া হতো। ওষুধ আসলে যায় কোথায়, সেটি খুঁজে বের করতেই আমি অধ্যাপক সালেকুল, জাকসু নেতা মোবারকসহ আমার অফিস ও হিসাবরক্ষণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছিলাম। তারা আজকের এই গরমিলগুলো ফাইন্ড আউট করেছে, এটি কেবল শুরু। আমরা একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করে ওষুধ কেনাকাটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথায় কোথায় অনিয়ম হয়েছে, তা খুঁজে বের করব। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

জাবি জাকসু চিকিৎসা কেন্দ্র

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রে ২১ দিনে সাড়ে ১৯ হাজার ওষুধ গায়েব!

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে মাত্র ২১ দিনে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধ গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে সাধারণ ওষুধ না পাওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এসব তথ্য সামনে আনেন জাকসু নেতারা।

​অভিযানে গায়েব হওয়া ওষুধের যে তালিকা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে অ্যালাট্রল ৪ হাজার ৬৪৫ পিস, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৯১২ পিস, সিপ্রোসিন ৪২০ পিস, প্যারাসিটামল ৫ হাজার পিস, টিমোনিয়াম ৭০০ পিস, ফ্যামোটিডিন ২ হাজার ৫০০ পিস, অ্যান্টানিল ২০০ পিস, ন্যাপ্রো ৯৯০ পিস এবং ডমপেরিডোন ৪ হাজার ২০০ পিস।

​অভিযান শেষে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পাদক হুসনি মোবারক বলেন, 'আমরা কিছুদিন যাবৎ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাচ্ছিলাম যে চিকিৎসাকেন্দ্রে কিছু বেসিক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। গত মাসের ৩০ তারিখে প্রায় ২ লাখ টাকার ওষুধ চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রদান করা হয়েছিল, যা এক মাস যাওয়ার কথা। কিন্তু ১৫ দিন যেতে না যেতেই ওষুধের জোগান ফুরিয়ে যাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে খটকা লাগে। তাই পূর্বঘোষণা ছাড়াই আজ আমরা তাৎক্ষণিক অভিযানে আসি। এখানে এসে দেখতে পাই, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে ব্যথার ওষুধসহ প্রত্যেকটি ওষুধেই বিশাল অঙ্কের গরমিল রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, জেনেশুনেই এই কারচুপি করা হয়েছে। গত ২০ দিনে প্রায় ৭৩ হাজার ১১০ টাকা সমমূল্যের সাড়ে ১৯ হাজারের বেশি ওষুধ মিসিং পেয়েছি। স্টোরকিপারকে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানাব। আমরা পূর্বের মাসগুলোর হিসাবও যাচাই-বাছাই করব। আশা করি, প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।'

​তবে অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সুস্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামাল বলেন, 'এই ২০-২১ দিনের মধ্যে এতগুলো ওষুধ গায়েব হওয়ার বিষয়ে আমি বলব, অবশ্যই আমার অবর্তমানে এটা হয়েছে। কিন্তু আমি তো সাধারণত কাউকে চাবি দিই না। কীভাবে এত ওষুধ গায়েব হতে পারে, তা বুঝতে পারছি না।'

​জাবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, 'ওষুধ কমে গেলে আমি প্রতিদিন চেক করি। ফার্মেসিতে গিয়ে ইনডেন্ট দেখি, যখন দেখি ঘরে ‘নিল’ (শূন্য) লেখা, তখন স্টোরকিপারকে জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন, যে পরিমাণ সাপ্লাই দেওয়া হয়েছিল তা শেষ হয়ে গেছে। তার সব স্টক লেজার মেনটেইন করা উচিত। চাবি যেহেতু তার কাছেই থাকে, তাই গরমিলটা কোথায় হলো, সেই জবাব তাকেই (নুর-এ-কামাল) দিতে হবে।'

​এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম বলেন, '২১ দিনে যদি ৭৬ হাজার টাকার ওষুধ গায়েব হয়ে থাকে, তবে এটি বড় ঘটনা। আমরা এক বছর ধরে যে ওষুধ দিয়েছি, সেটার কোনো অডিট করা হয়নি। আমরা প্রতিদিন একজন শিক্ষার্থীর কয়টি ওষুধ লাগতে পারে, তার একটি হিসাব করে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে এখানে সমস্যা আছে, তাই সব কাজ বাদ দিয়ে আজ এসেছি। আমরা চাই পেছনের ব্যাকলগসহ ক্যালকুলেশন করে এক বছর বা তারও পেছনের ইনভেস্টিগেশন করা হোক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, 'দুই দিন পরপরই চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ওষুধের চাহিদা দেওয়া হতো। ওষুধ আসলে যায় কোথায়, সেটি খুঁজে বের করতেই আমি অধ্যাপক সালেকুল, জাকসু নেতা মোবারকসহ আমার অফিস ও হিসাবরক্ষণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছিলাম। তারা আজকের এই গরমিলগুলো ফাইন্ড আউট করেছে, এটি কেবল শুরু। আমরা একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করে ওষুধ কেনাকাটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথায় কোথায় অনিয়ম হয়েছে, তা খুঁজে বের করব। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা