গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং সরকারকে ধিক্কার দেবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, 'জনগণের সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এই ব্যর্থতার দায় আমরা নেবো না। আর এ কারণেই আমাদের এই লড়াই ও রাজপথের সংগ্রাম।'
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে এক ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষমতাসীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকারি দল একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন কিংবা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চায় না। তারা পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী কায়দাতেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় বলেই গণভোটের ঐতিহাসিক গণরায়কে নস্যাৎ করার পাঁয়তারা করছে।
তিনি স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'বাংলার জমিনে এই গণরায় অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, তাকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। আমরা এই দাবি আদায়ে সংসদে ও রাজপথে যুগপৎ লড়াই চালিয়ে যাব। দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে তা মানতে বাধ্য করা হবে।'
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস বা ‘ধানাই-পানাই’ বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, 'আমাদের অতীতে অনেক লোভ-লালসা দেখানো হয়েছে, যা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা জনগণের সাথে কোনো বেইমানি করব না। সরকার এখন পুনরায় স্বৈরশাসকের ভাষায় কথা বলছে এবং তাদের চেলাচামুণ্ডা ও ‘বটবাহিনী’ দিয়ে মানুষের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।'
দেশের উচ্চশিক্ষালয়গুলোর পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতির চিরতরে কবর হয়ে গেছে। এখন যদি কেউ নতুন করে সেই ফ্যাসিবাদী নির্যাতন ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে ছাত্রসমাজ তাদেরই ফিরিয়ে দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা বজায় রাখা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, বিরোধীদল চুপচাপ আছে মানে তারা ঘুমিয়ে যায়নি।
বক্তব্য শেষে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিসহ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাবি শিবিরের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানকে সাথে নিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাথে এক সৌজন্য মতবিনিময়ে মিলিত হন।
পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক ও শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং সরকারকে ধিক্কার দেবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, 'জনগণের সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এই ব্যর্থতার দায় আমরা নেবো না। আর এ কারণেই আমাদের এই লড়াই ও রাজপথের সংগ্রাম।'
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে এক ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষমতাসীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকারি দল একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন কিংবা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চায় না। তারা পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী কায়দাতেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় বলেই গণভোটের ঐতিহাসিক গণরায়কে নস্যাৎ করার পাঁয়তারা করছে।
তিনি স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'বাংলার জমিনে এই গণরায় অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, তাকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। আমরা এই দাবি আদায়ে সংসদে ও রাজপথে যুগপৎ লড়াই চালিয়ে যাব। দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে তা মানতে বাধ্য করা হবে।'
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস বা ‘ধানাই-পানাই’ বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, 'আমাদের অতীতে অনেক লোভ-লালসা দেখানো হয়েছে, যা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা জনগণের সাথে কোনো বেইমানি করব না। সরকার এখন পুনরায় স্বৈরশাসকের ভাষায় কথা বলছে এবং তাদের চেলাচামুণ্ডা ও ‘বটবাহিনী’ দিয়ে মানুষের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।'
দেশের উচ্চশিক্ষালয়গুলোর পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতির চিরতরে কবর হয়ে গেছে। এখন যদি কেউ নতুন করে সেই ফ্যাসিবাদী নির্যাতন ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে ছাত্রসমাজ তাদেরই ফিরিয়ে দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা বজায় রাখা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, বিরোধীদল চুপচাপ আছে মানে তারা ঘুমিয়ে যায়নি।
বক্তব্য শেষে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিসহ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাবি শিবিরের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানকে সাথে নিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাথে এক সৌজন্য মতবিনিময়ে মিলিত হন।
পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক ও শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন