চৈত্র সংক্রান্তি ও বাঙালির লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘ভেলা বাইচ’ প্রতিযোগিতা। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন সংলগ্ন ‘রংপুকুরে’ উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
কলাগাছ দিয়ে তৈরি ১১টি ভেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হলের ২২ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মাত্র ২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করে প্রথম স্থান অধিকার করে শহীদ সালাম-বরকত হল। ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয় নবাব সলিমুল্লাহ হল এবং ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করে আ ফ ম কামালউদ্দিন হল।
আয়োজকরা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য রেখেছিলেন ভিন্নধর্মী পুরস্কার। প্রথম স্থান অধিকারীদের একটি রাজহাঁস, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের একটি দেশি মুরগি এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীদের এক জোড়া কবুতর প্রদান করা হয়।
প্রথম হওয়া শহীদ সালাম-বরকত হলের শিক্ষার্থী আল মামুন বলেন, “প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই ভেলা বাইচে প্রথম হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এমন সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের জন্য জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই।”
গ্রামবাংলার হারানো এই সংস্কৃতি উপভোগ করতে রংপুকুরের চারপাশে ভিড় করেন শত শত শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দর্শনার্থী। সাভার থেকে আসা হীরা খাতুন জানান, সচরাচর এমন খেলা দেখা যায় না বলে সন্তানদের নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে এসেছেন। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান বলেন, “ক্লাস বাদ দিয়ে বন্ধুরা মিলে এসেছি শেকড়ের সংস্কৃতির এই উৎসব দেখতে।”
আয়োজনের মুখ্য সমন্বয়ক ও জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহিবুল্লাহ শেখ বলেন, “সব কাজে বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা থেকেই এই ভেলা বাইচের চিন্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের সহায়তায় জাকসুর তত্ত্বাবধানে ভেলাগুলো ক্যাম্পাসে তৈরি করা হয়েছে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমন উৎসবমুখর ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের জন্য জাকসুকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্যাম্পাসে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চৈত্র সংক্রান্তি ও বাঙালির লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘ভেলা বাইচ’ প্রতিযোগিতা। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন সংলগ্ন ‘রংপুকুরে’ উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
কলাগাছ দিয়ে তৈরি ১১টি ভেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হলের ২২ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মাত্র ২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করে প্রথম স্থান অধিকার করে শহীদ সালাম-বরকত হল। ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয় নবাব সলিমুল্লাহ হল এবং ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করে আ ফ ম কামালউদ্দিন হল।
আয়োজকরা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য রেখেছিলেন ভিন্নধর্মী পুরস্কার। প্রথম স্থান অধিকারীদের একটি রাজহাঁস, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের একটি দেশি মুরগি এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীদের এক জোড়া কবুতর প্রদান করা হয়।
প্রথম হওয়া শহীদ সালাম-বরকত হলের শিক্ষার্থী আল মামুন বলেন, “প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই ভেলা বাইচে প্রথম হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এমন সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের জন্য জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই।”
গ্রামবাংলার হারানো এই সংস্কৃতি উপভোগ করতে রংপুকুরের চারপাশে ভিড় করেন শত শত শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দর্শনার্থী। সাভার থেকে আসা হীরা খাতুন জানান, সচরাচর এমন খেলা দেখা যায় না বলে সন্তানদের নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে এসেছেন। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান বলেন, “ক্লাস বাদ দিয়ে বন্ধুরা মিলে এসেছি শেকড়ের সংস্কৃতির এই উৎসব দেখতে।”
আয়োজনের মুখ্য সমন্বয়ক ও জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহিবুল্লাহ শেখ বলেন, “সব কাজে বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা থেকেই এই ভেলা বাইচের চিন্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের সহায়তায় জাকসুর তত্ত্বাবধানে ভেলাগুলো ক্যাম্পাসে তৈরি করা হয়েছে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমন উৎসবমুখর ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের জন্য জাকসুকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্যাম্পাসে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন