বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ রোগী, শয্যা সংকটে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল

ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ রোগী, শয্যা সংকটে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল
জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল। ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

পরিত্যাক্ত ভবনে চলছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের সেবা কার্যক্রম।

আর অন্তর্বিভাগের ধারন ক্ষমতা ২৫০ শয্যা থাকলেও প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০০ থেকে ৬০০জন রোগী। চিকিৎসকদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও শয্যা সংকট, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অধিক সময় ব্যয়, অন্তর্বিভাগে ভর্তি ও অতিরিক্তদের জন্য খাবার বরাদ্দ না থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। আর এসব দূর্ভোগের কথা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে জানানোর কথা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জামালপুর জেলার ২৫ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসাস্থল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল। জামালপুর ছাড়াও কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর জেলার জনগন এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত পরিত্যাক্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনে চলছে বহির্বিভাগের সেবা কার্যক্রম আর প্রতিদিনই ধারন ক্ষমতার কয়েকগুন বেশি রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালটিতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। হাসপাতালের করিডোরের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে রোগীদের। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়- অন্তর্বিভাগে শয্যার সংখ্যা ২৫০ হলেও প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে অনেক রোগী শয্যা না পেয়ে করিডোর বা অস্থায়ীভাবে মেঝেতে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

এদিকে হাসপাতালে খাবারও বরাদ্দ থাকে ২৫০ জন রোগীর জন্য।

ইসলামপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা খালেক বলেন, “আমি এখানে সাত দিন যাবৎ ভর্তি। এখানে কোনো বেড নাই। নিচ থেকে পাটি নিয়ে আইসা থাকতে হয়। তাও অনেক সমস্যা। এক পাটির ভিতরে দুই তিন জন আইসা বইস্যা থাকে। এটা অনেক শক্ত। অনেক সমস্যা আর কি।”

একজন রোগীর স্বজন রুকন আহমেদ বলেন, “জেলার  সাতটি উপজেলা থেকেই এখানে রুগীরা আসেন। হাসপাতালে আসলে দেখা যায় সামান্য অসুস্থতার জন্য আমাদের ময়মনসিংহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গরীব রোগী যারা আছেন তারা চাইলেও সেখানে যেতে পারে না।”

হাসপাতালে ভর্তি থাকা ১৪ বছর বয়সী রাসেল এর দাদী আমেনা বলেন, “আমরা আসছি আমার নাতি নিয়ে। পরিবেশ আসলে সুবিধাজনক না। দুর্গন্ধ, জায়গায় জায়গায় ময়লা টয়লা সব। কোনায় কানায় হাবি জাবি রাখছে। রোগীর সিট নাই। এক সিটের মধ্যে দুইডা, তিনডা কইরা রোগী। এমন পরিবেশে চলতাছে।”

চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও পরীক্ষা নিরীক্ষায় অধিক সময় নেয়ার অভিযোগ রোগী ও তার স্বজনদের।

চিকিৎসা নিতে আসা রূকন বলেন, “ডাক্তারের সেবা যত্ন ঠিক আছে। যখনই ডাক্তার আসে, নার্সরা আসতাছে। আগে আগে প্রেসক্রিপশন দিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার আসছে, সিট ঠিক করুন। এসব সেবা যত্ন ঠিক আছে।”

আজিজ মিয়া বলেন, “আমি তিন দিন যাবত রোগী নিয়ে এখানে আছি। হসপিটালে নার্সদের সেবা ভালো। ডাক্তারদের সেবাও ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপে আমরা কাঙ্খিত সেবাটি পাচ্ছি না।”

এছাড়াও অন্তর্বিভাগে ২৫০ জনের জন্য বরাদ্দ থাকায় তিন বেলা খাবার পাচ্ছে না ভর্তি হওয়া অন্য রোগীরা। এতে আরো দূর্ভোগে পড়েছেন জেলা শহরের বাইরে থেকে আসা হত দরিদ্র রোগীরা।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের এমন রুগ্ন অবস্থা দূর করে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত ও অতিরিক্ত শয্যা প্রদানের দাবি সকলের।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “জামালপুরের এই হাসপাতালের রুগ্ন অবস্থা দূর করে রোগীদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দেয়া হোক।”

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে রোগীদের দূর্ভোগ, নতুন ভবন নির্মান এবং খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য পত্র প্রেরন করা হয়েছে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল সহকারী পরিচালক ডা: মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, “ আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আবাসন সংকট। কিন্তু বর্তমানে মেডিকেল কলেজ হিসেবে ব্যবহার করায় রোগীর চাপ বেড়ে গেছে এবং আজকে এই মূহুর্তে রোগী ভর্তি আছেন ৭০০ এর উপরে। ধারন ক্ষমতার প্রায় তিন গুন রোগী, তার পরেও  আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রোগীদের থাকার জায়গা দেওয়া। তাদের প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া। এটার জন্য আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরকে চিঠি আকারে জানিয়েছি। যেনো আমাদেরকে নতুন ভবন তৈরী করে দেয়া হয়।

স্বাস্থ্যসেবা সংকট দুরবস্থা ভোগান্তি

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ রোগী, শয্যা সংকটে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পরিত্যাক্ত ভবনে চলছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের সেবা কার্যক্রম।

আর অন্তর্বিভাগের ধারন ক্ষমতা ২৫০ শয্যা থাকলেও প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০০ থেকে ৬০০জন রোগী। চিকিৎসকদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও শয্যা সংকট, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অধিক সময় ব্যয়, অন্তর্বিভাগে ভর্তি ও অতিরিক্তদের জন্য খাবার বরাদ্দ না থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। আর এসব দূর্ভোগের কথা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে জানানোর কথা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জামালপুর জেলার ২৫ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসাস্থল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল। জামালপুর ছাড়াও কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর জেলার জনগন এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত পরিত্যাক্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনে চলছে বহির্বিভাগের সেবা কার্যক্রম আর প্রতিদিনই ধারন ক্ষমতার কয়েকগুন বেশি রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালটিতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। হাসপাতালের করিডোরের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে রোগীদের। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়- অন্তর্বিভাগে শয্যার সংখ্যা ২৫০ হলেও প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে অনেক রোগী শয্যা না পেয়ে করিডোর বা অস্থায়ীভাবে মেঝেতে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

এদিকে হাসপাতালে খাবারও বরাদ্দ থাকে ২৫০ জন রোগীর জন্য।

ইসলামপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা খালেক বলেন, “আমি এখানে সাত দিন যাবৎ ভর্তি। এখানে কোনো বেড নাই। নিচ থেকে পাটি নিয়ে আইসা থাকতে হয়। তাও অনেক সমস্যা। এক পাটির ভিতরে দুই তিন জন আইসা বইস্যা থাকে। এটা অনেক শক্ত। অনেক সমস্যা আর কি।”

একজন রোগীর স্বজন রুকন আহমেদ বলেন, “জেলার  সাতটি উপজেলা থেকেই এখানে রুগীরা আসেন। হাসপাতালে আসলে দেখা যায় সামান্য অসুস্থতার জন্য আমাদের ময়মনসিংহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গরীব রোগী যারা আছেন তারা চাইলেও সেখানে যেতে পারে না।”

হাসপাতালে ভর্তি থাকা ১৪ বছর বয়সী রাসেল এর দাদী আমেনা বলেন, “আমরা আসছি আমার নাতি নিয়ে। পরিবেশ আসলে সুবিধাজনক না। দুর্গন্ধ, জায়গায় জায়গায় ময়লা টয়লা সব। কোনায় কানায় হাবি জাবি রাখছে। রোগীর সিট নাই। এক সিটের মধ্যে দুইডা, তিনডা কইরা রোগী। এমন পরিবেশে চলতাছে।”

চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও পরীক্ষা নিরীক্ষায় অধিক সময় নেয়ার অভিযোগ রোগী ও তার স্বজনদের।

চিকিৎসা নিতে আসা রূকন বলেন, “ডাক্তারের সেবা যত্ন ঠিক আছে। যখনই ডাক্তার আসে, নার্সরা আসতাছে। আগে আগে প্রেসক্রিপশন দিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার আসছে, সিট ঠিক করুন। এসব সেবা যত্ন ঠিক আছে।”

আজিজ মিয়া বলেন, “আমি তিন দিন যাবত রোগী নিয়ে এখানে আছি। হসপিটালে নার্সদের সেবা ভালো। ডাক্তারদের সেবাও ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপে আমরা কাঙ্খিত সেবাটি পাচ্ছি না।”

এছাড়াও অন্তর্বিভাগে ২৫০ জনের জন্য বরাদ্দ থাকায় তিন বেলা খাবার পাচ্ছে না ভর্তি হওয়া অন্য রোগীরা। এতে আরো দূর্ভোগে পড়েছেন জেলা শহরের বাইরে থেকে আসা হত দরিদ্র রোগীরা।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের এমন রুগ্ন অবস্থা দূর করে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত ও অতিরিক্ত শয্যা প্রদানের দাবি সকলের।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “জামালপুরের এই হাসপাতালের রুগ্ন অবস্থা দূর করে রোগীদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দেয়া হোক।”

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে রোগীদের দূর্ভোগ, নতুন ভবন নির্মান এবং খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য পত্র প্রেরন করা হয়েছে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল সহকারী পরিচালক ডা: মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, “ আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আবাসন সংকট। কিন্তু বর্তমানে মেডিকেল কলেজ হিসেবে ব্যবহার করায় রোগীর চাপ বেড়ে গেছে এবং আজকে এই মূহুর্তে রোগী ভর্তি আছেন ৭০০ এর উপরে। ধারন ক্ষমতার প্রায় তিন গুন রোগী, তার পরেও  আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রোগীদের থাকার জায়গা দেওয়া। তাদের প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া। এটার জন্য আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরকে চিঠি আকারে জানিয়েছি। যেনো আমাদেরকে নতুন ভবন তৈরী করে দেয়া হয়।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা