বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

আইন আদালত

শিরীন শারমিনের রিমান্ড চেয়ে ডিবির আবেদন

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
শিরীন শারমিনের রিমান্ড চেয়ে ডিবির আবেদন
ডিবি

গণ অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা এক মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (আজ) বেলা ১টার পর ডিবি কার্যালয় থেকে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলায় তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে ডিবি। তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন আদালতে এ আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিবির আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলেন। অভিযোগ করা হয়, আন্দোলন দমনে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল (ফাহিম) গুরুতর আহত হন। তাঁর বাম চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, এতে তাঁর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়েছে।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা-র নির্দেশে ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সংশ্লিষ্টরা পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেন। এ মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওইদিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলাকালে প্রায় ৩১ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আসামিদের সম্পৃক্ততা ছিল এবং তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজের পরিচয় নিশ্চিত করলেও মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া, জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিবি।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানকালীন হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে এবং বাকি তিনটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


শিরীন শারমিনের রিমান্ড চেয়ে ডিবির আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গণ অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা এক মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (আজ) বেলা ১টার পর ডিবি কার্যালয় থেকে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলায় তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে ডিবি। তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন আদালতে এ আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিবির আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলেন। অভিযোগ করা হয়, আন্দোলন দমনে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল (ফাহিম) গুরুতর আহত হন। তাঁর বাম চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, এতে তাঁর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়েছে।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা-র নির্দেশে ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সংশ্লিষ্টরা পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেন। এ মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওইদিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলাকালে প্রায় ৩১ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আসামিদের সম্পৃক্ততা ছিল এবং তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজের পরিচয় নিশ্চিত করলেও মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া, জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিবি।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানকালীন হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে এবং বাকি তিনটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা