তীব্র গরমের এই সময়ে রাজধানীসহ সারা দেশে শিশুদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া এবং শরীরে র্যাশের মতো সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গের অনেকগুলোই হামের মতো (Measles-like symptoms) হলেও সব ক্ষেত্রে ল্যাবে হাম শনাক্ত হচ্ছে না। তবে এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর শিশু হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নবজাতক থেকে শুরু করে ৬ মাস বয়সী শিশুরাই এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাম নিশ্চিত না হলেও উপসর্গ মিল থাকায় অনেক শিশুকে সতর্কতামূলকভাবে আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিদিন নতুন নতুন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, তবে সঠিক চিকিৎসায় অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের মধ্যে কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা অভিভাবকদের জন্য বিপদাশঙ্কে সংকেত।
কখন সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি করা যাবে না:
১. শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা ওঠা।
২. পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া।
৩. অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা।
শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসকরা ৫টি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন:
জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে সাধারণ অসুখ ভেবে ঘরে বসে না থেকে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, খাবার স্যালাইন ও পুষ্টিকর খাবার দিন যাতে শরীর পানিশূন্য না হয়।
আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখুন যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
শিশুর চারপাশ এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
নির্ধারিত সময়ে শিশুর হাম-রুবেলা (MR) টিকা নিশ্চিত করুন।
বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের শেষ কথা: সচেতনতা ও সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে এই সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব। ছোট কোনো লক্ষণকেও অবহেলা না করে সতর্ক থাকাই এখন সবথেকে বেশি জরুরি।

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
তীব্র গরমের এই সময়ে রাজধানীসহ সারা দেশে শিশুদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া এবং শরীরে র্যাশের মতো সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গের অনেকগুলোই হামের মতো (Measles-like symptoms) হলেও সব ক্ষেত্রে ল্যাবে হাম শনাক্ত হচ্ছে না। তবে এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর শিশু হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নবজাতক থেকে শুরু করে ৬ মাস বয়সী শিশুরাই এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাম নিশ্চিত না হলেও উপসর্গ মিল থাকায় অনেক শিশুকে সতর্কতামূলকভাবে আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিদিন নতুন নতুন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, তবে সঠিক চিকিৎসায় অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের মধ্যে কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা অভিভাবকদের জন্য বিপদাশঙ্কে সংকেত।
কখন সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি করা যাবে না:
১. শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা ওঠা।
২. পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া।
৩. অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা।
শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসকরা ৫টি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন:
জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে সাধারণ অসুখ ভেবে ঘরে বসে না থেকে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, খাবার স্যালাইন ও পুষ্টিকর খাবার দিন যাতে শরীর পানিশূন্য না হয়।
আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখুন যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
শিশুর চারপাশ এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
নির্ধারিত সময়ে শিশুর হাম-রুবেলা (MR) টিকা নিশ্চিত করুন।
বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের শেষ কথা: সচেতনতা ও সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে এই সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব। ছোট কোনো লক্ষণকেও অবহেলা না করে সতর্ক থাকাই এখন সবথেকে বেশি জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন