বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

রাজনীতি

সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ নয়: শফিকুর রহমান

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ নয়: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: বিপ্লবী বার্তা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি, বরং ফ্যাসিবাদের জন্মদাতা ধারাগুলোর আমূল পরিবর্তন চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াত সংবিধানবিরোধী নয়। তবে গত ৫৪ বছরে সংবিধানের যে ধারাগুলো দফায় দফায় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, আমরা সেগুলোর পরিবর্তন চাই। আমরা এমন এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ক্ষমতার গরমে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।” নতুন বাংলাদেশ মানে ভৌগোলিক সীমা বা পতাকা বদল নয়, বরং বৈষম্যহীন ও সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা।

গত ১৭ বছর জামায়াতের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান সংসদের সদস্যদের 'মজলুম' হিসেবে অভিহিত করেন।

জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জুলাই সনদ আমাদের কলিজার অংশ। আমরা গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন কোনোটাকেই অস্বীকার করি না। জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।”

তিনি কোনো বিতর্ক ছাড়াই গণভোট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।

সংসদে মব কালচার বা বিশৃঙ্খলার দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন: “যে দলের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে এবং হাজারো কর্মীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে, সেই দলের ওপর অপবাদ দেওয়া এই সংসদের জন্য লজ্জার ব্যাপার।”

তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরকে ফ্যাসিবাদের জন্মলগ্ন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেদিন থেকেই লগি-বৈঠার তাণ্ডবের মাধ্যমে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যের শেষে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েমের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত সবাই যেন আইনের সমান সুরক্ষা পায় এবং নাগরিক হিসেবে ন্যায্য পাওনা বুঝে পায়, সেটিই জামায়াতের মূল লক্ষ্য।

শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদ

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ নয়: শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি, বরং ফ্যাসিবাদের জন্মদাতা ধারাগুলোর আমূল পরিবর্তন চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না।


রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াত সংবিধানবিরোধী নয়। তবে গত ৫৪ বছরে সংবিধানের যে ধারাগুলো দফায় দফায় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, আমরা সেগুলোর পরিবর্তন চাই। আমরা এমন এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ক্ষমতার গরমে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।” নতুন বাংলাদেশ মানে ভৌগোলিক সীমা বা পতাকা বদল নয়, বরং বৈষম্যহীন ও সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা।


গত ১৭ বছর জামায়াতের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান সংসদের সদস্যদের 'মজলুম' হিসেবে অভিহিত করেন।

জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জুলাই সনদ আমাদের কলিজার অংশ। আমরা গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন কোনোটাকেই অস্বীকার করি না। জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।”



তিনি কোনো বিতর্ক ছাড়াই গণভোট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।



সংসদে মব কালচার বা বিশৃঙ্খলার দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন: “যে দলের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে এবং হাজারো কর্মীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে, সেই দলের ওপর অপবাদ দেওয়া এই সংসদের জন্য লজ্জার ব্যাপার।”


তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরকে ফ্যাসিবাদের জন্মলগ্ন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেদিন থেকেই লগি-বৈঠার তাণ্ডবের মাধ্যমে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।



বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যের শেষে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েমের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত সবাই যেন আইনের সমান সুরক্ষা পায় এবং নাগরিক হিসেবে ন্যায্য পাওনা বুঝে পায়, সেটিই জামায়াতের মূল লক্ষ্য।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা