প্রকৃতিতে এখন চৈত্র মাস। নিয়ম অনুযায়ী এ সময় তপ্ত রোদ আর কাঠফাটা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হওয়ার কথা। কিন্তু কুড়িগ্রামের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা ফুলবাড়ীতে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে চৈত্রসংক্রান্তির এই সময়েও যেন ফিরে এল পৌষের শীত। ভোরের শিশির বিন্দু আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যায় পুরো জনপদ।
শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলার চারপাশ শুভ্র কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। পথঘাট থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ—সবই ঢাকা পড়েছিল সাদা আবরণে। বসন্তের শেষ ভাগে এসে এমন শীতের দৃশ্যপট দেখে স্থানীয়রা রীতিমতো বিস্মিত। কুয়াশার পাশাপাশি বাতাসে ছিল হালকা শীতের তীব্রতা। সকাল ৮টার দিকে সূর্য উঁকি দিলেও দুপুর ২টা পর্যন্ত রোদের দেখা মেলেনি। তবে দুপুরের পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে ভ্যাপসা গরমে কিছুটা অস্বস্তি শুরু হয়।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় জানান, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আগে কখনও দেখিনি। সকালে কুয়াশা দেখে কিছুটা বিস্মিত হয়েছি। তবে আমাদের লোকজ প্রবাদ আছে—‘চৈত্রে কুয়া, ভাদ্রে বান, নরের মুণ্ড গড়াগুড়ি জান’। দিন বদলের সাথে সাথে প্রকৃতিতেও অনেক পরিবর্তন আসছে।”
একই এলাকার কৃষক আবুল হোসেন ও ইউসুফ খন্দকার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়ার খামখেয়ালি আচরণ চলছে। দিনের বেলা গরম থাকলেও রাতে কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে এখনও কম্বল ব্যবহার করতে হচ্ছে। সকালে বাইরে বের হতে গায়ে দিতে হচ্ছে হালকা শীতের পোশাক।
গত ১০-১২ দিন ধরে কুড়িগ্রামের এই অঞ্চলে অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করছে। কখনও ঝড়-বৃষ্টি, কখনও তপ্ত রোদ, আবার হঠাৎ ঘন কুয়াশা—সব মিলিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে কৃষকদের মাঝে ফসলের ক্ষতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ কাজ করছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার সকালে জেলাজুড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ছিল। তবে এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি বলেন, “জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হওয়ায় এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার কারণে এমন কুয়াশা তৈরি হতে পারে। শীত শুরুর আগে বা বিদায়ের পরেও এমন আবহাওয়া দেখা যায়। সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে, তাই বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের কুয়াশা দেখা দিচ্ছে।”
চৈত্র মাসের এই খামখেয়ালি আচরণে একদিকে যেমন প্রকৃতিপ্রেমীরা অবাক হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটছে।

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকৃতিতে এখন চৈত্র মাস। নিয়ম অনুযায়ী এ সময় তপ্ত রোদ আর কাঠফাটা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হওয়ার কথা। কিন্তু কুড়িগ্রামের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা ফুলবাড়ীতে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে চৈত্রসংক্রান্তির এই সময়েও যেন ফিরে এল পৌষের শীত। ভোরের শিশির বিন্দু আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যায় পুরো জনপদ।
শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলার চারপাশ শুভ্র কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। পথঘাট থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ—সবই ঢাকা পড়েছিল সাদা আবরণে। বসন্তের শেষ ভাগে এসে এমন শীতের দৃশ্যপট দেখে স্থানীয়রা রীতিমতো বিস্মিত। কুয়াশার পাশাপাশি বাতাসে ছিল হালকা শীতের তীব্রতা। সকাল ৮টার দিকে সূর্য উঁকি দিলেও দুপুর ২টা পর্যন্ত রোদের দেখা মেলেনি। তবে দুপুরের পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে ভ্যাপসা গরমে কিছুটা অস্বস্তি শুরু হয়।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় জানান, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আগে কখনও দেখিনি। সকালে কুয়াশা দেখে কিছুটা বিস্মিত হয়েছি। তবে আমাদের লোকজ প্রবাদ আছে—‘চৈত্রে কুয়া, ভাদ্রে বান, নরের মুণ্ড গড়াগুড়ি জান’। দিন বদলের সাথে সাথে প্রকৃতিতেও অনেক পরিবর্তন আসছে।”
একই এলাকার কৃষক আবুল হোসেন ও ইউসুফ খন্দকার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়ার খামখেয়ালি আচরণ চলছে। দিনের বেলা গরম থাকলেও রাতে কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে এখনও কম্বল ব্যবহার করতে হচ্ছে। সকালে বাইরে বের হতে গায়ে দিতে হচ্ছে হালকা শীতের পোশাক।
গত ১০-১২ দিন ধরে কুড়িগ্রামের এই অঞ্চলে অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করছে। কখনও ঝড়-বৃষ্টি, কখনও তপ্ত রোদ, আবার হঠাৎ ঘন কুয়াশা—সব মিলিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে কৃষকদের মাঝে ফসলের ক্ষতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ কাজ করছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার সকালে জেলাজুড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ছিল। তবে এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি বলেন, “জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হওয়ায় এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার কারণে এমন কুয়াশা তৈরি হতে পারে। শীত শুরুর আগে বা বিদায়ের পরেও এমন আবহাওয়া দেখা যায়। সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে, তাই বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের কুয়াশা দেখা দিচ্ছে।”
চৈত্র মাসের এই খামখেয়ালি আচরণে একদিকে যেমন প্রকৃতিপ্রেমীরা অবাক হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটছে।

আপনার মতামত লিখুন