বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

এক জেলায় দুই আকাশ

গলাচিপায় পুষ্টির হাসি, দশমিনায় ক্ষুধার কান্না

গলাচিপায় পুষ্টির হাসি, দশমিনায় ক্ষুধার কান্না
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। ছবি: বিপ্লবী বার্তা

পটুয়াখালী জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানচিত্রে অদ্ভুত এক বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। জেলার তিন উপজেলার শিক্ষাচিত্রে ধরা পড়েছে সম্পূর্ণ দুই ভিন্ন বাস্তবতা। একদিকে গলাচিপা ও বাউফলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির বদৌলতে শিশুদের মুখে পুষ্টির হাসি ফুটছে, অন্যদিকে জেলার অন্যতম দরিদ্র ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত উপজেলা দশমিনায় শিশুরা এখনো শূন্য পেটে শ্রেণিকক্ষে বসছে। উন্নয়নের এই অসম বণ্টনে একই জেলার ভেতরে তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য দেয়াল।

গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চিত্র এখন উৎসবমুখর। নিয়মিত পুষ্টিকর বিস্কুট বা খাবার হাতে পেয়ে শিশুদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে শ্রেণিকক্ষ। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, এই কর্মসূচির ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার যেমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, তেমনি কমেছে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা। বিদ্যালয়ে পুষ্টির নিশ্চয়তা পাওয়ায় অভিভাবকরাও এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।

অথচ মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে দশমিনা উপজেলার চিত্র একেবারেই ধূসর। নদীভাঙন কবলিত ও চরাঞ্চল বেষ্টিত এই উপজেলার মানুষের প্রতিদিনের জীবন এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দারিদ্র্যের চরম কষাঘাতে জর্জরিত এই জনপদের অনেক শিশুই সকালে কিছু না খেয়েই পাঠশালায় রওনা হয়। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম না থাকায় এখানকার শিশুদের একদিকে যেমন শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়ায় বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—যেখানে গলাচিপা ও বাউফলের মতো উপজেলায় এই কার্যক্রম সফলভাবে চলছে, সেখানে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দশমিনা কেন ব্রাত্য? পরিসংখ্যান বলছে, দশমিনার চরাঞ্চলগুলো জেলার অন্যতম দরিদ্র এলাকা। অথচ যেখানে কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি, সেখানেই সরকারের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের অনুপস্থিতি হতাশাজনক।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, "স্কুল ফিডিং কেবল একটি কল্যাণমূলক কাজ নয়, এটি প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার এবং পুষ্টিহীনতা দূর করার একটি শক্তিশালী কৌশল।" স্থানীয়দের দাবি, দশমিনাকে দ্রুত এই কর্মসূচির আওতায় আনা না হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পুষ্টি ও শিক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই স্থায়ীভাবে পিছিয়ে পড়বে।

একই জেলার দুই জনপদে এই প্রকট বৈষম্য দূর করা এখন সময়ের দাবি। দশমিনার চরের যে শিশুটি প্রতিদিন খালি পেটে বর্ণমালার সঙ্গে যুদ্ধ করে, তার হাতে কবে পৌঁছাবে পুষ্টির প্যাকেট সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্থানীয়রা। জেলাজুড়ে উন্নয়নের সুফল সমানভাবে পৌঁছাতে নীতি-নির্ধারকদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই এখন একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্কুল ফিডিং প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬


গলাচিপায় পুষ্টির হাসি, দশমিনায় ক্ষুধার কান্না

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালী জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানচিত্রে অদ্ভুত এক বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। জেলার তিন উপজেলার শিক্ষাচিত্রে ধরা পড়েছে সম্পূর্ণ দুই ভিন্ন বাস্তবতা। একদিকে গলাচিপা ও বাউফলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির বদৌলতে শিশুদের মুখে পুষ্টির হাসি ফুটছে, অন্যদিকে জেলার অন্যতম দরিদ্র ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত উপজেলা দশমিনায় শিশুরা এখনো শূন্য পেটে শ্রেণিকক্ষে বসছে। উন্নয়নের এই অসম বণ্টনে একই জেলার ভেতরে তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য দেয়াল।


গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চিত্র এখন উৎসবমুখর। নিয়মিত পুষ্টিকর বিস্কুট বা খাবার হাতে পেয়ে শিশুদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে শ্রেণিকক্ষ। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, এই কর্মসূচির ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার যেমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, তেমনি কমেছে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা। বিদ্যালয়ে পুষ্টির নিশ্চয়তা পাওয়ায় অভিভাবকরাও এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।


অথচ মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে দশমিনা উপজেলার চিত্র একেবারেই ধূসর। নদীভাঙন কবলিত ও চরাঞ্চল বেষ্টিত এই উপজেলার মানুষের প্রতিদিনের জীবন এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দারিদ্র্যের চরম কষাঘাতে জর্জরিত এই জনপদের অনেক শিশুই সকালে কিছু না খেয়েই পাঠশালায় রওনা হয়। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম না থাকায় এখানকার শিশুদের একদিকে যেমন শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়ায় বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি।


স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—যেখানে গলাচিপা ও বাউফলের মতো উপজেলায় এই কার্যক্রম সফলভাবে চলছে, সেখানে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দশমিনা কেন ব্রাত্য? পরিসংখ্যান বলছে, দশমিনার চরাঞ্চলগুলো জেলার অন্যতম দরিদ্র এলাকা। অথচ যেখানে কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি, সেখানেই সরকারের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের অনুপস্থিতি হতাশাজনক।


শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, "স্কুল ফিডিং কেবল একটি কল্যাণমূলক কাজ নয়, এটি প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার এবং পুষ্টিহীনতা দূর করার একটি শক্তিশালী কৌশল।" স্থানীয়দের দাবি, দশমিনাকে দ্রুত এই কর্মসূচির আওতায় আনা না হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পুষ্টি ও শিক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই স্থায়ীভাবে পিছিয়ে পড়বে।


একই জেলার দুই জনপদে এই প্রকট বৈষম্য দূর করা এখন সময়ের দাবি। দশমিনার চরের যে শিশুটি প্রতিদিন খালি পেটে বর্ণমালার সঙ্গে যুদ্ধ করে, তার হাতে কবে পৌঁছাবে পুষ্টির প্যাকেট সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্থানীয়রা। জেলাজুড়ে উন্নয়নের সুফল সমানভাবে পৌঁছাতে নীতি-নির্ধারকদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই এখন একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা