বিপ্লবী বার্তা
আজ মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রাপ্ত নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মদিন। দিনটি উপলক্ষে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাকে স্মরণ করছে জাতি।
১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান বীর। তার পিতা আমানত শেখ এবং মাতা জেনাতুন নেছা। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী, কর্তব্যপরায়ণ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ।
কর্মজীবনে তিনি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এ যোগদান করেন। দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সহকর্মীদের মধ্যে আস্থা ও সম্মান অর্জন করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নূর মোহাম্মদ শেখ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে যশোর অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন সম্মুখযুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয় দেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে যশোরের গোয়ালহাটি এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক সম্মুখযুদ্ধে তিনি অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তিনি শত্রুর গুলিতে গুরুতর আহত হন। তবুও নিজের জীবন উপেক্ষা করে সহযোদ্ধাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেন এবং লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন।
সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষায় আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি সেদিন শাহাদাত বরণ করেন। তার এই আত্মদান ও বীরত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
তার অসামান্য সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে।
তার স্মৃতি সংরক্ষণে নড়াইলে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। তার জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে চলেছে।
আজ তার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে এই মহান বীরকে, যার আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা।

