সিরাজদীখানে রহস্যজনক রোগে কোয়েল খামারে বিপর্যয়, একদিনে সাড়ে ৬ হাজার পাখির মৃত্যু
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে কোয়েল পাখির খামার গড়ে তুলেছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা সুফিয়ান। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যেই শুরু করেছিলেন খামার। কিন্তু হঠাৎ অজ্ঞাত রোগে তার খামারে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। মাত্র একদিনের ব্যবধানে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোয়েল পাখির মৃত্যু হয়েছে। এতে তার আনুমানিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।


ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মধ্যচর গ্রামে। ভুক্তভোগী সুফিয়ান স্থানীয় চিনি মিয়ার ছেলে এবং ‘মরিয়ম পোল্ট্রি অ্যান্ড কোয়েল খামার’-এর মালিক। খামারে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য মৃত কোয়েল পাখি স্তূপ করে রাখা হয়েছে, যা পুরো এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


খামার মালিক সুফিয়ান জানান, অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় এনজিওসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে কয়েক মাস আগে প্রায় ৮ হাজার কোয়েল বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। অল্পদিনের মধ্যেই পাখিগুলো ডিম দেওয়া শুরু করে এবং প্রতিদিন ডিম বিক্রি করে তার আয় হতো প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। এই খামারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি, তার পরিবার এবং আরও তিনজন শ্রমিক।


তিনি বলেন, “হঠাৎ করেই পাখিগুলো ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতি মিনিটে শত শত পাখি মারা যেতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিলেও কোনো কাজ হয়নি। যেগুলো বেঁচে আছে সেগুলোর অবস্থাও ভালো না।”


সুফিয়ান আরও জানান, খামার গড়ে তুলতে তার প্রায় ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঋণের টাকা। ডিম বিক্রির আয় দিয়ে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও এই আকস্মিক ক্ষতিতে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।


স্থানীয় ইউপি সদস্য আলেক চান সজীব বলেন, “বিষয়টি জানার পর খুবই মর্মাহত হয়েছি। এই একটি খামারের ওপরই তার পুরো পরিবার নির্ভর করছিল। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে তাকে সহায়তা করা যায়।”


এ বিষয়ে সিরাজদীখান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শবনম সুলতানা বলেন, “প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে কী কারণে পাখিগুলো মারা গেছে।”


এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত রোগের কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।