দর্শনায় বিএনপি কর্মীর ওপর হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকায় ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে রিপন (৪৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার সন্ধ্যায় দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বড় মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


আহত রিপন ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মান্নানের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতার শেষে মসজিদে প্রবেশের সময় ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো হাসুয়া দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাসেম (৫৬) ও খায়রুল কামড়ি (৪৫) গংয়ের সঙ্গে বিএনপি কর্মী রিপনের পূর্ব বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নারুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা দর্শনা থানা ঘেরাও করে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক মো. হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, রিপনের ওপর হামলা পরিকল্পিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি করছি।


দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, রিপন নামে একজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


হামলার পর থেকে ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।