পিরোজপুরে হাদি হত্যার বিচার ও পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলা ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সাধারণ ছাত্র-জনতা। 


আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলা শহরের গোপাল কৃষ্ণ সুপার মার্কেট সংলগ্ন টাউন ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পিরোজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। 


এসময় আন্দোলনকারীরা শহীদ হাদি হত্যার বিচার এবং পুলিশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ‘আমি কে, তুমি কে—হাদি হাদি’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, এবং ‘জাবেরের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’—স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।


সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক পুলিশি আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আফরোজা তুলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ন্যায়বিচার চাওয়ার অপরাধে যদি মার খেতে হয়, তবে রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’’ বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাইয়ের বিপ্লব এখনও শেষ হয়ে যায়নি। দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না।’’


সমাবেশ থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, পুলিশের এমন আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হতেই হবে এবং নির্বাচিত সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হবে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।


বক্তারা আরও বলেন, 'শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এই নির্মম দমন-পীড়ন মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই হামলার সম্পূর্ণ দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।' অবিলম্বে হত্যা ও হামলার বিচার না হলে ছাত্র-জনতা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবে বলে জানান তারা।