ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় দুর্লভ প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে র্যাব-১০। এ সময় আন্তঃজেলা পাচারকারী চক্রের প্রধান আসাদুজ্জামান ওরফে সাদ্দাম শেখ (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়।
১৮ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের মূর্তি সংগ্রহ করে সুবিধাজনক স্থানে মজুদ ও পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত (রোববার) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আনুমানিক এক কোটি টাকা মূল্যমানের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধারসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. আসাদুজ্জামান ওরফে সাদ্দাম শেখ (৩৫)। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের শেখ বাড়ির বাসিন্দা এবং আকবর হোসেন শেখের পুত্র।
র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তিটির ওজন ১১৮ দশমিক ৬০ কেজি এবং উচ্চতা প্রায় ৪৯ ইঞ্চি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের মূর্তি সংগ্রহ করে চোরাচালানের মাধ্যমে পাচার করতেন।
ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, 'উদ্ধারকৃত মূর্তিটি কালো রঙের কষ্টিপাথরের। এটি অত্যন্ত প্রাচীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।'
তিনি বলেন, ‘এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে এর বাজারমূল্য আমাদের জানা নেই। তবে আমরা যাকে আটক করেছি, তিনি ৩০ লাখ টাকায় এটি এক জায়গা থেকে কিনেছেন এবং প্রায় তিন কোটি টাকায় বিক্রির জন্য একটি চক্রের সঙ্গে কথা বলছিলো বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের জানিয়েছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানাত বলেন, 'এ ব্যাপারে র্যাব বাদী হয়ে পুরাকীর্তি আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এসে প্রতিমা টি কষ্টিপাথরে নির্মিত কি না এবং কষ্টিপাথরে নির্মিত হলে এর বাজারমূল্য কেমন, তা নির্ধারণ করবেন।
গ্রেফতারকৃত আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরিসহ বিভিন্ন থানায় মোট ৯ টি মামলা রয়েছে। তিনি একটি মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিও ছিলেন। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত শত শত বছর পুরোনো এই কষ্টিপাথরের মূর্তি আমাদের অতীত সভ্যতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও শিল্পচেতনার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রত্নতাত্ত্বিক এ ধরনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং জাতির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা বলে সাধারণ জণগণের মত।

