চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৪৮) সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তার ঔষধের ফার্মেসি থেকে তাকে তুলে নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ এডি রেজিমেন্ট (টিটিসি আর্মি ক্যাম্প) এর একদল সদস্য।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের নাম করে তাঁকে জীবননগর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চলতে থাকা জিজ্ঞাসাবাদকালে ডাবলুর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর রাত ১০টার পর সেনাসদস্যরা তাকে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও উত্তেজনার ছায়া নেমে আসে। নিহত শামসুজ্জামান ডাবলু দুই সন্তানের জনক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দুই সন্তানের সঙ্গে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ও দলের কর্মীরা আবেগপ্রবণ হন।
জেলা বিএনপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেনাক্যাম্প বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

