দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলবাজারে ব্যবসায়ীরা শনিবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রেখে চলা এ কর্মসূচির ফলে দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের রেলবাজার এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে চুয়াডাঙ্গা থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। পরে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা অবরোধ ও আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জানান, বিচার সালিশ চলাকালীন সময়েই একদল দুর্বৃত্ত সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি মারধরের ঘটনায় অন্তত পাচজন গুরুতর আহত হন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও তারা হুশিয়ারি দেন।
এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দর্শনা রেলবাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন,দর্শনা পুরাতন বাজারের মৃত গনি মিয়ার ছেলে মাংস ব্যবসায়ী মো. কালু মিয়া (৩৫), আজিমপুর এলাকার মৃত বাবু মিয়ার ছেলে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের হেলপার মো. আসলাম হোসেন (৩০), মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও সুপারভাইজার জাকির হোসেন (৪৬), রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সদস্য শরীফ মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের মনোরঞ্জন মার্কেটের সামনে একটি বাস ঘোরানোকে কেন্দ্র করে রাস্তা থেকে ভ্যান সরানো নিয়ে এক মাংস ব্যবসায়ীর দোকান কর্মচারীর সঙ্গে পরিবহন হেলপার আসলামের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসলামকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
ঘটনার জের ধরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলাকালে বাকবিতণ্ডা তীব্র আকার ধারণ করলে উভয় পক্ষ চেয়ার-টেবিল তুলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
দোকান মালিক সমিতির অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় কার্যালয় থেকে নগদ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করা হয়েছে। পরে দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

